জানা যায়, ২০০৭ সালে এসআরও’র মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ে ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করে এনবিআর। তিন বছর পর আদেশ সংশোধন করে বেসরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকেও করের আওতায় আনা হয়। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে ৪৬টি রিট আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ২০১৬ সালে এনবিআরের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এনবিআর।
এরইমধ্যে ২০২১ সালে বাজেট অধিবেশনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ে কর আরোপের বিধান, অর্থ আইনে যুক্ত করে অর্থমন্ত্রণালয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে বলে রায় দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বেঞ্চ।
.png)
তবে কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু কর পরিশোধ করায় মঙ্গলবারের মধ্যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব খুলে দেওয়া হবে। এদিকে, এ সংক্রান্ত মামলার পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই কর আদায়ের এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতি।
সাবেক কর কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখানে কমার্সিয়াল ইন্টারভেনশন হচ্ছে। তারা অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে। টাকা যেটা তারা নিচ্ছে সেটাও কিন্তু অনেক। যেখানেই প্রফিটের গন্ধ আছে, সেখানেই কিন্তু ট্যাক্স এনটিটি আছে।’
রায়ের পর কর আদায়ে ৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেয় কর অঞ্চল ১১। চিঠি পেয়েও কোনো জবাব দেয়নি ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়। জবাব না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব সম্প্রতি স্থগিত করেন কর কর্মকর্তারা। তারা জানান, হিসাব স্থগিত করার পর ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় ১৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে যে ট্যাক্স দিতে হবে, তাহলে তো আমাদের দিতেই হবে। উপায় নেই। সরকার আইন করে দিলে দিতে হবে, আদালতের রায় আছে। অতএব দিতেই হবে। পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো বের হয়নি। কতগুলো ইউনিভার্সিটির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে, রমজান মাসে এটা বন্ধ করে দিয়ে মানুষের মনে আঘাতটা দেওয়ার দরকার ছিল বলে আমার মনে হয় না।’
দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে শতাধিক। এর মধ্যে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আয়কর নিয়ে বিরোধ চলছে বলে জানান এনবিআর কর্মকর্তারা। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করা হবে বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতি।