এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেলটির কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা না থাকা ও আস্থাহীনতার কারণে গত তিন বছরে কাউকে কোনো অভিযোগ জমা দিতে দেখা যায়নি। তবে সেলটিতে সম্প্রতি একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। আর এর পর পরই ব্যক্তিগত অপারগতা দেখিয়ে কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দা সিদ্দীকা পদত্যাগ করেন। সে কারণে ১ এপ্রিল বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা সাথীকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেন উপাচার্য।
প্রক্টর অফিস সূত্রে জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র অন্য ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ জমা দেন প্রক্টর অফিসে। প্রক্টর অফিস প্রাথমিক তদন্ত করে সেই অভিযোগ পাঠায় যৌননিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে। সেই অভিযোগ যাওয়ার পর সেলের আহ্বায়ক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। ফলে সেই অভিযোগ সেভাবেই আটকে যায়।
.png)
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়শই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে কোনো অভিযোগ যাচ্ছে না। বিগত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সম্প্রতি সেলে যৌন-নিপীড়নের প্রথম অভিযোগ জমা পড়ে। তবে এই সময়ে প্রক্টর অফিসে বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়ে, যা যৌন নিপীড়ন পর্যায়ের।
শিক্ষার্থীরা জানায়, যৌননিপীড়ন প্রতিরোধ সেল সম্পর্কে তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। পাশাপাশি দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না থাকায় সেল নিয়ে আস্থাহীনতাও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো ধরণের ঘটনার জন্য প্রক্টর অফিসে অভিযোগ জমা দেন। প্রক্টর অফিস তাদের মতো করে কাজ করে। সেগুলোর মধ্যে কোনোটির নিষ্পত্তি হয়, আবার কোনোটি পড়ে থাকে দফতরেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকদের দাবি, যৌননিপীড়ন প্রতিরোধ সেল তাদের কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছতে ও আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এজন্য শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ করছে না। সেলটি শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে পারলে উদ্দেশ্য সফল হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও উচিত তদারকি করা।
এদিকে, সেল থেকে পদত্যাগ করা আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনো অভিযোগ আসেনি। আগের কমিটিও কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে দেয়নি। এজন্য কোনো সভা বা কাজ হয়নি। আমি ব্যক্তিগত অপারগতার কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম। তবে যতটুকু জানি সম্প্রতি একটি অভিযোগ এসেছে। আমি যেহেতু দায়িত্বপালন করব না, সেজন্য এটি নিয়ে কাজ করা হয়নি।’