ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ক্যানসার দমাতে পারেনি মাহাথিরকে, এসএসসিতে পেলেন জিপিএ-৫

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৯, ১৪ মে ২০২৪
ক্যানসার দমাতে পারেনি মাহাথিরকে, এসএসসিতে পেলেন জিপিএ-৫
মা-বাবার সঙ্গে মাহাথির। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ পাঁচ বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পরও দমানো যায়নি বরিশাল জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহাথির রহমানকে। এ বছর সে প্রতিটি বিষয়ে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) নিয়ে পাস করেছে। ভবিষ্যতে ক্যানসারের মানবিক চিকিৎসক হতে চায় মাহাথির। আর তাকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন তার মা-বাবা এবং আত্মীয়স্বজন।

বরিশাল নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মুন্সির গ্য্যারেজ এলাকার বাসিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মফিজুর রহমান জামাল ও হোসনে আরা পলিন দম্পতির ছেলে মাহাথির রহমান। যমজ দুই ভাইয়ের আরেকজন মাকতুম রহমান বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

মাহাথির রহমান জানায়, ২০১৮ সালে ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন মায়ের সঙ্গে মার্কেটে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের কাছে গেলে জানতে পারে ব্লাড ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। এরপর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা চলে। তার অসুস্থতার খবর শুনে দেশে ফিরে আসেন বাবা। ভারতে একটানা ছয় মাস চিকিৎসা করেন। কোভিডের সময় তিন মাস পর পর আসা যাওয়া করতে অনেক সমস্যা হয়। তার পরেও সুস্থ হয়ে ২০২২ সালে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফরম পূরণ করেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সে। এ সময় তার ও ভাইয়ের খারাপ লেগেছিল। কিন্তু করার তো কিছু ছিল না। ভাই জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

Advertisement

মাহাথির জানান, ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে। যমজ ভাই মাকতুম রহমান তাকে স্টিম সেল দিয়েছে। এখন ভালো আছে সে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।  

অসুস্থ হলেও পরিবার সব সময় তাকে সাহস দিয়েছে। কখনো তারা বুঝতে দেয়নি সে অসুস্থ। পরিবার ও শিক্ষকরা সব সময় পাশে ছিল। তাদের উৎসাহে মনোবল ভাঙেনি। তাদের দেওয়া সাহস ও নিজের ওপর আস্থা ভালো ফল অর্জনে সহায়তা করেছে।  গ্লোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পাওয়ায় তার ইচ্ছা ঢাকা নরডেম কলেজে পড়ার। সুযোগ পেলে সেখানে পড়বে। নয়তো ঢাকার ভালো কোনো কলেজে পড়ার চেষ্টা করবে।

ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জানিয়ে মাহাথির বলে, আমি তো একজন অসুস্থ রোগী। তাই চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সেবা করতে চাই।  

তার বাবা মফিজুর রহমান জামাল জানান, ভালো রেজাল্ট করায় আমরা খুশি। ভবিষ্যতে সে চিকিৎসক হতে চায়। সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব।  

মাহাথিরের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমার যমজ দুই ছেলেই মেধাবী। তারা বেশিরভাগ সময় পড়ালেখায় কাটায়। পড়ার জন্য তাদের বলতে হয় না। মাহাথির চিকিৎসাধীন অবস্থায় বই নিয়ে পড়াশুনা করত। তার শরীর ভালো থাকলেই কোনোভাবে তাকে আটকানো যেত না। আর এ কারণেই এসএসসিতে ভালো ফল করেছে। ছোটবেলা থেকেই মাহাথির বলত, সে ডাক্তার হবে। অসুস্থ হওয়ার পর সেই আবেগটা তার মধ্যে বেশি কাজ করেছে। কারণ, ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে কষ্টটা অনুভব করতে পেরেছে সে। এ কারণে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হতে চায় মাহাথির।

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া জেসমিন বলেন, ক্যানসারের মতো এমন মরণব্যাধি নিয়েও এসএসসি পরীক্ষায় মাহাথিরের এমন সাফল্যে খুশি আমরা সবাই। যেকোনো প্রয়োজনে মাহাথিরের পাশে থাকাব। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: বরিশাল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!