ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জাবি ছাত্রীকে হেনস্তা, মৌমিতার ১৬ বাস আটক

জাবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ১৫ মে ২০২৪
জাবি ছাত্রীকে হেনস্তা, মৌমিতার ১৬ বাস আটক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা-সাভারগামী মৌমিতা পরিবহনের বাসের হেল্পার কর্তৃক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাভার থেকে টিউশন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে সাভারের রেডিওকলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তিনি। এছাড়া এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর থেকে মৌমিতা পরিবহনের ১৬টি বাস আটকে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘আমি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে ব্যাংক টাউন থেকে টিউশন করিয়ে মৌমিতা বাসে করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে আসছিলাম। বাস চলাকালে হেল্পার ভাড়া চাইলে আমি টাকা দিই। হেল্পার বলে তার কাছে ভাংতি নাই, পরবর্তীতে আমাকে ভাংতি টাকা ফেরত দিবে। কিন্তু বাস রেডিও কলোনির কাছাকাছি আসার পর হেল্পার জানায় বাস আর সামনে যাবে না। বাসের যাত্রীরা সবাই তখন নেমে চলে যায়। আমি তখন হেল্পারকে ভাংতি টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বললে হেল্পার বলে, আপনাকে ঢাকা নিয়ে যাই।’

ভুক্তভোগী তার অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করেন, ‘বাসে মাত্র তিনজন লোক ছিল। বাসের চালক, হেল্পার এবং ওদের সঙ্গে একজন। ঢাকা নিয়ে যাবে বলেই, তারা আমাকে বাজেভাবে ইঙ্গিত দেয়। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। তাড়াহুড়ো করে বাস থেকে নামতে চেষ্টা করলে বাস ছেড়ে দেয়। আমি কিছু না ভেবে বাস থেকে লাফ দেই এবং হাঁটুতে প্রচুর ব্যথা পাই। এই ঘটনার পরে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমার ব্যাচমেটদের বিষয়টি জানালে ওরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

Advertisement

এদিকে এ ঘটনার জেরে বুধবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) এলাকায় ঢাকা-নবীনগরগামী মৌমিতা পরিবহনের ১৬টি বাস আটক করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। তবে আটককৃত বাসের চালক ও হেল্পারদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন বাস কর্তৃপক্ষ।

আটক করে রাখা একটি বাসের চালক মোজাম্মেল ও হেল্পার বাবলু জানান, সকাল থেকে বাসগুলো ছাত্ররা আটক করতে শুরু করে। ঠিক কোন কারণে আটকানো হয়েছে তা জানতেন না তারা। এসময় ছাত্ররা বাস আটকে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। মোবাইল নেয়ার সময় প্রতিবাদ করলে একজনকে চড় মারা হয়েছে বলে অভিযোগও তুলেছেন এই চালক ও হেল্পার।

বাস আটকানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মনির উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘আমরা আশুলিয়া থানার পুলিশসহ ছাত্রদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু সিসিটিভি দেখে কোনো ঘটনা শনাক্ত করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বাদী হয়ে মামলা করবেন। ঘটনা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাসগুলো এখানেই থাকবে।’ 

মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তেজিত অবস্থায় ছাত্ররা এ কাজ করেছে। পরে আমি উপস্থিত হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে মোবাইলগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির বলেন, ‘ছাত্ররা ও আশুলিয়া থানার পুলিশসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা কিছু শনাক্ত করতে পারি নাই। আমরা বাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি দ্রুত ঐ বাসের হেল্পার ও চালককে শনাক্ত করে আমাদের জানাতে। পুলিশ ও চেষ্টা করছে তাদেরকে শনাক্ত করার জন্য।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!