ক্যাম্পাসের বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকালে চোখে পড়ে, দখিনা হাওয়ায় ঢেউ খেলে উলু ফুলগুলো প্রকৃতির অপরূপ লীলাখেলায় মেতে ওঠে। সেই সঙ্গে সাদা ফুলেরা দোল খায় বাতাসে। ক্যাম্পাসকে অপরূপ সৌন্দর্যে সাজিয়ে রেখেছে উলু ফুল।
উলু ঘাসের ফুল দেখতে কাশফুলের মতো, তবে আকারে অনেক ছোট। ঘাসগুলো ২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতাগুলো গাছের গোড়ার কাছে প্রায় ২ সেন্টিমিটার চওড়া এবং শীর্ষে একটি তীক্ষ্ণ বিন্দু পর্যন্ত সরু হয়; মার্জিনগুলো সূক্ষ্মভাবে দাঁতযুক্ত এবং ধারালো সিলিকা স্ফূটিক দ্বারা এম্বেড করা হয়। মূল শিরাটি পাতার বাকি অংশের তুলনায় হালকা রঙের। গাছের গোড়ার কাছে ওপরের পৃষ্ঠটি লোমযুক্ত এবং নীচের অংশটি সাধারণত লোমহীন হয়। উলু গাছ এর বৈজ্ঞানিক নাম ইম্পেরটা সিলিন্ড্রিকা। এরা বহুবর্ষজীবী প্রজাতি।
.png)
সাধারণত স্যাঁতস্যাঁতে পতিত জমিতে এরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ে এবং বছরের পর বছর বেঁচে থাকতে পারে। কাঠফাটা রোদের সঙ্গে উলু ফুলের দুলে ওঠা আবহমান বাংলার চিরচেনা রূপ। যা হৃদয়কে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।
খাঁ খাঁ রোদ্দুরে ক্যাম্পাসের উলু ফুলগুলো বাড়তি সৌন্দর্য ছাড়াচ্ছে। উলু ফুলের শুভ্র গালিচায় ছেঁয়েছে রংপুরের ৭৫ একরের এই ক্যাম্পাস। তীব্র রোদ্র, প্রচণ্ড দাবদাহ। একটু শীতল ছায়ায় পরশ পেতে উদগ্রীব হাজারো মানুষ। গ্রাম কিংবা শহরে শুধু নয়, সর্বত্র এ দৃশ্য বিরাজমান। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে প্রকৃতি যখন পুড়ছে, তখন উত্তরের আলোকবর্তিকা রংপুরের ক্যাম্পাসটি সেজেছে উলু ফুলের শুভ্রতায়।
চৈত্রের কাঠফাটা রোদ হার মেনেছে সাদার ক্যানভাসে। তীব্র রোদের আলো নয়, চোখ ধাঁধাচ্ছে উলু ফুল। গ্রাম ও শহরের মিশ্র পরিবেশে তৈরি সবুজে ঘেরা ৭৫ একরের ক্যাম্পাস কাঁপছে শুভ্র উজ্জ্বলতায়। যেন মনে হচ্ছে কঠোর তাপদাহে ঝলসে গেছে বেরোবির বুক।
সবুজের সমারোহ, বৃক্ষের চাদরে যেটুকু টিকে আছে, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে নানান রঙের ফুল। ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গায় কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু এর সৌন্দর্য হৃদয় ছেয়ে যাচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের। পর্যটক বা সৌন্দর্য বিলাসী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে উলু ফুল বা ঘাসফুল।

উলু ফুলের মন মাতানো সৌন্দর্য নিংড়ে পড়তেছে বেরোবি শিক্ষার্থীদের প্রাণে। এ যেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উলু ফুলের মুক্তা ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই মুক্তা মোবাইল বা ক্যামেরা বন্দির মাধ্যমে নিজের ঝুলিতে কুড়িয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসের সাদায় মায়ায় প্রকৃতি যেন নেমেছে শুদ্ধতার অভিযানে। তাইতো, ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাণে লাগে পবিত্রতার ছোঁয়া। বাতাসে যখন উলু ফুলগুলো দুলে তখন মনে হয় হাসছে ক্যাম্পাস, প্রকৃতি আর হৃদয়ের গহিন কোণ। শুভ্র সেই হাসিতে যেন মুক্তা ছড়াচ্ছে আকাশ, বাতাস, প্রাণের ক্যাম্পাস।
বছরের ছয়টি ঋতুতেই ফুলে ফুলে সুশোভিত থাকে উত্তরের এ বিদ্যাপীঠ। প্রকৃতির পালাবদলে রঙ-বেরঙের এসব ফুল দ্যুতি ছড়ায় প্রতিটি দিনই। হৃদয়কাড়া এ সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় আর স্নিগ্ধতায় ভরে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ, বিভিন্ন চত্বর। শুরুতেই গ্রীষ্মের তাপ হার মানে উষ্ণ অভ্যর্থনায়। বিভিন্ন চত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগুলোর আশপাশে লাগানো হরেক রকমের ফুল মন মাতিয়ে রাখে প্রতিটি প্রাণকেই। তবে শুভ্রতায় শোভিত করে ঐ উলুফুলই। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর খেলার মাঠের পশ্চিম অংশ পুরোটা জায়গা সাদায় মাতিয়ে রেখেছে উলুফুল।
অযত্নে থাকা ফুলগুলো যেন আপন মনে গড়ে নিয়েছে নিজের সাম্রাজ্য। বেলা-অবেলায় মৃদু কিংবা ঝড়ো হাওয়ায় সেই ফুল যখন দোল খায়। সামনে থেকে দেখতে মনে হয় এক সাদা সমুদ্রের ঢেউ বয়ে চলেছে। প্রায় শত শতাংশের মাঠটি হয়ে উঠেছে আরেক দর্শনীয় স্থান। ফুল নিয়ে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার বলেন, গ্রীস্মের কাঠফাটা রোদে যখন হাপিয়ে উঠি। তখন ক্যাম্পাসে ঘুরতে আছি। ক্যাম্পাসের উলু ফুলগুলো আমাকে আকর্ষিত করে। উলুফুলের সৌন্দর্য ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে গেছে। দক্ষিণা বাতাসে যখন উলু ফুলগুলো দোলে তখন দেখতে ভালো লাগে।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান বলেন, ঘাসের চাদরে শুয়ে, হাতে উলুফুল বা ঘাস ফুল নিয়ে শুয়ে থাকাটাও যে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোর মধ্যে একটা। ঘাস ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে মৌমাছিও আকৃষ্ট হয়। কারণ মৌমাছির কাছে সব ফুলেই সমান। যদি কষ্টে ভরা মনকে ভালো করতে চান তবে ঘাস ফুলের মাঝে চলে যান। সেখানে অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবেন।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল হক বলেন, প্রকৃতির অপরূপ চিত্র যেন এক মহান শিল্পীর তুলিতে আকা বর্ষার আগমনি গানের সঙ্গে যেন তাল, সুর, লয় মিলিয়ে প্রকৃতিকে জানান দিচ্ছে বেরোবির সাদা ঘাস ফুল। ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রী ও বাহিরের যারা ঘুরতে আসে সবাই যেন সাদা কাশফুলের মায়ায় পড়ে ঘাস ফুলকে বরণ করে নিচ্ছে। সবার চাহনি যেন এই অপরূপ প্রকৃতির সুন্দর সাদা ঘাস ফুলকে ঘিরে।