বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়।
অবরোধকালে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা বহালের নির্দেশের নিন্দা জানান। পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানান।
.png)
এসময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেল বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছরে এসে কোটা ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক। আর এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই আমাদের প্রতিবাদ। আমাদের সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের যে ঘোষণাপত্র আছে; সেখানে তিনটি মূলনীতি উল্লেখ আছে। সেগুলো হলো সাম্য, সামাজিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার। কোটা পদ্ধতি এই মূলনীতির বিরুদ্ধে।'
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তৌহিদুল মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে যারা দিনের পর দিন পড়ালেখা করছে তাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়। আমরা এই বৈষম্যমূলক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্য সন্তান। তাদের আমরা শ্রদ্ধা করি। তবে কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। কোটা পদ্ধতি থাকলে আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার মূল্যায়ন পাবে না।’
এদিকে প্রতিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বৈষম্যমূলক এই নির্দেশের বাতিলের দাবিতে খুব দ্রুতই একটি নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে তারা প্রতিবাদ জানাবেন ও বাতিল হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বৃহস্পতিবার রাতে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকারি চাকরিতে নবম থেকে ত্রয়োদশতম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ কোটা তুলে দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে বুধবার (৫ জুন) জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।