ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

যৌন হয়রানিতে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষককে ফেরাতে শিক্ষিকাকে জিম্মি!

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
যৌন হয়রানিতে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষককে ফেরাতে শিক্ষিকাকে জিম্মি!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগে দুই নারী সহকর্মীকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগে দুই বছরের জন্য অব্যাহতি পায় অধ্যাপক ড. এনামুল হক। এবার সেই শিক্ষককে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকমন্ডলীর একাংশের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের কয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করায় ঐ শিক্ষকদের টানা ৮ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার সকালে এ ঘটনায় নিজের এবং সহকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাজমা আফরোজ। 

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- অব্যাহতি পাওয়া অধ্যাপক এনামুল হক, বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. মজিবুল হক আজাদ ও তাদের কয়েকজন সহযোগী শিক্ষক। 

Advertisement

লিখিত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ড. নাজমা আফরোজকে বিভাগের সভাপতি টেলিফোনে ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বিভাগে বিদ্যমান পরিস্থিতির বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কমিটির মিটিংয়ের বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি মিটিংয়ের দিনে উপস্থিত হয়ে সভাপতিকে মিটিংয়ের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে বিভাগীয় সভাপতি বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে দেখতে পান বিভাগের কিছু সংখ্যক এবং বহিরাগত ছাত্র একত্রিত হয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৫২৫তম সিন্ডিকেট সভার ৩৮ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যৌন নিপীড়নের অভিযোগের শান্তিপ্রাপ্ত ‘যৌন-নিপীড়ক’ শিক্ষক অধ্যাপক ড. এনামুল হককে বিভাগে ফেরত আনার জন্য হৈচৈ শুরু হয়। সে বিষয়ে আলোচনার জন্য সভাপতি অধ্যাপক ড. মজিবুল হক আজাদসহ তার অনুগত ২-১ জন শিক্ষক তাদেরকে গবেষণাগারে নিয়ে যান। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

লিখিত অভিযোগপত্র থেকে আরো জানা যায়, স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে সবাইকে জিম্মি করে ৭টা পর্যন্ত আটক রাখা হয়। মুক্ত হওয়ার পর জানতে পারেন শান্তিপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক এনামুল হক তার কতিপয় সহযোগী এবং বখাটে কিছু ছাত্রের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক তাদের আটকে রাখেন। পরবর্তীতে গত ১১ সেপ্টেম্বর সভাপতির অফিস কক্ষে পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় এবং বিভাগে নিজের নেমপ্লেটের পাশাপাশি অধ্যাপক নূরে আলম সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. কাজী ইমরুল কায়েশ, অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়া ও অধ্যাপক সাদেকা বানুর নেমপ্লেট ভাঙচুর করে এবং বিভাগের অফিস কক্ষসহ সবার কক্ষে তালা ঝোলানোসহ ফুলের টব ভাঙচুর করে ভীতিজনক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। 

এ ঘটনায় বিভাগীয় সভাপতিকে প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হলে তিনি ফোন করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বিভাগে আসেন। তারপর তারা উদ্ধার পান। বিভাগের সভাপতির আচরণ ও সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তারা। বিভাগে বর্তমানে নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ কোনোটিই বিদ্যমান নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ড. নাজমা আফরোজ অভিযোগ করে বলেন, আমার সঙ্গে পরপর দুইদিন এ ঘটনা ঘটেছে। আমি খুব ভীতিকর অবস্থায় আছি। আমি কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারছি না। যৌন নিপীড়ক শিক্ষক ড. এনামুল তার শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে আমার পিছনে লেলিয়ে দিয়েছেন। আমি সঠিক বিচারের আশায় উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং থানায় জিডিও করব।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এনামুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। আমার সঙ্গে তো ডিপার্টমেন্টের আপাতত সম্পর্ক নেই। এখন কে বা কারা এমনটা করছে তা বুঝতে পারছি না। তবে ডিপার্টমেন্ট থেকে মাঝেমধ্যে কোনো প্রয়োজন বা কোনো কাগজপত্রের দরকার পড়লে আমাকে ফোন দেয় এতটুকুই। কিন্তু সার্বিক বিষয়ে আমি অবগত নই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমা আফরোজ আজকে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি বেশ জটিল। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

এর আগে, গত ২০২৩ সালের ২১মে অধ্যাপক এনামুল হকের বিরুদ্ধে অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অধ্যাপক ড. নাজমা আফরোজ ও তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়া উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ৫২৫তম সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. এনামুল হককে দুই বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

সেই ঘটনায় অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অব্যাহতি থেকে মুক্তি পেতে ড. নাজমা আফরোজকে শিক্ষার্থীদের দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, অফিস কক্ষ ভাঙচুর ও তার কক্ষের নেমপ্লেট ভাঙচুর করান ড. এনামুল হক এমন অভিযোগ এনে আজ উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী এই শিক্ষিকা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!