ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বাণিজ্যমেলায় দখলকৃত মাঠটি ফেরত চায় শেকৃবি

শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫০, ১ অক্টোবর ২০২৪
বাণিজ্যমেলায় দখলকৃত মাঠটি ফেরত চায় শেকৃবি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাণিজ্যমেলার জন্য দখলকৃত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ গবেষণার জন্য পুনরায় ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় মানববন্ধন করেন তারা। 

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ প্রদান সূত্রে মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যমেলার জন্য তা ব্যবহার হচ্ছিল। এখন মাঠটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বাণিজ্য মেলায় সাময়িক ব্যবহারের জন্য মাঠটি সরকার থেকে নেয়া হলেও, তা এখন আর বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না বলেও জানা যায়। 

জানা যায়, তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় “The Bengal Agriculture Institute” (বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) স্থাপনের জন্য ১৯২০ সালের ১৫/১৯১৯-২০নং এল এ কেইস এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৯৮.৪৮২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে। যা ১০৯ নং ডিক্লারেশনের মাধ্যমে ৩ জানুয়ারি ১৯২০ সালে কলকাতা গেজেটভুক্ত হয়। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি রয়েছে শুধু মাত্র ৮৭.৫১৯ একর জমির ওপর। 

Advertisement

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটির জায়গা অধিগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের গবেষণার মাঠটি অস্থায়ীভাবে বাণিজ্যমেলার জন্য ব্যবহার শুরু করে। এ সময় ছাত্রদের একটি আবাসিক হল ও কৃষি খামার সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় তৎকালীন বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার ইন্সটিটিউট (বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)। বর্তমানে বাণিজ্য মেলা স্থানান্তরিত হওয়ায় এবং গণভবনের নিরাপত্তার বিষয় না থাকায় গবেষণা মাঠটি পুনরায় ফিরে পেতে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং দ্রুতই এই জমিটি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। অধ্যাপক ড. রজ্জব আলী বলেন, মাঠটি একসময় আমাদেরই ছিল। স্বৈরাচার এরশাদের সময় আমাদের কৃষি কলেজের মাঠটি কেড়ে নেয়া হয়। আমাদের হল, মসজিদ, পোলট্রি খামারও এখানেই ছিল। এছাড়াও আমাদের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এখন অনেক বেড়েছে। স্নাতকোত্তর, পিএইচডি উচ্চতর গবেষণার জন্যও আমাদের মাঠটি প্রয়োজন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, মূলত কৃষি বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য জমির প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকলেও আমাদের প্রয়োজনের বিপরীতে গবেষণা ফিল্ডের অনেকটা ঘাটতি রয়েছে। এজন্য আমাদের গবেষণার প্রয়োজনীয়তায় বাণিজ্যমেলার মাঠটি ব্যবহার করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই যা অত্যন্ত যৌক্তিক। তাছাড়া আমাদের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গবেষণা দেশের কৃষি, অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে। তাই সরকার যদি শেকৃবির চাহিদা এবং দাবির কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে পজিটিভ চিন্তা করে তাহলে সামগ্রিক অর্থে দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলেই আমরা মনে করছি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যার পুনর্বাসনের জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ধান ও সবজির চারার জন্য প্রস্তুতকরণে এ মাঠেই কাজ শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!