খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে পাঁচজন ডাক্তার, একজন সিনিয়র নার্স এবং একজন সহকারী রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর মেডিকেল সেন্টারের জন্য ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এরমধ্যে ২ লাখ টাকা চলে যায় ইন্সট্রুমেন্ট কেনার জন্য, বাকি ৪ লাখ ওষুধের জন্য। প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় ওষুধ কেনার জন্য। এর মধ্যে ৩১০০ টাকা থেকে ৬২০০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট দিতে হয়। এতে ১২ পদের ওষুধ ক্রয় করা হয়। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় পর্যাপ্ত নয় জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ।
এদিকে গেল বছর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি থেকে শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে কিছু আধুনিক মেডিকেল সরঞ্জাম দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বেড, একটি এক্স-রে ভিউ বক্স, একটি ইসিজি মেশিন, একটি অপারেশন-সামগ্রী জীবাণু মুক্ত করার অটোক্লেব মেশিন।
.png)
সরেজমিন দেখা যায়, ডাক্তাররা নিয়মিত মেডিকেল সেন্টারে আসেন না। এতে শিক্ষার্থীরা সেবা না পেয়ে চলে যায়। এছাড়াও চিকিৎসকরা যেসব ঔষধ রেফার করেন, তার অধিকাংশই মেডিকেল সেন্টারে পাওয়া যায় না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের আশেপাশে বসবাস করেন। বিভিন্ন সময় কেউ নিম্ন রক্তচাপ, কেউ উচ্চ রক্তচাপ, কেউ রক্তশূন্যতা, জ্বর-ঠাণ্ডা, কাশি, গ্যাস্ট্রিকসহ নানা সমস্যা হলে মেডিকেলে যায়, তখন সেবা পায় না। এতে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ওপর ভর করতে হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যেসব রোগে ভোগেন তার অধিকাংশ ঔষধই এখান থেকে পাওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসলাম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিকেল সেন্টারে আসলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষতার অভাবে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সার্বক্ষণিক সেবা দিতে না পারায় প্রাথমিক সেবার অভাব লক্ষ্য করা গেছে।
ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, সরঞ্জাম ব্যবহার করতে অপারেটর লাগবে। ইসিজি এমন খোলা জায়গায় ব্যবহার করা যায় না। যা আমাদের এখানে নেই। এছাড়াও এখানে ডাক্তারেরও সংকট রয়েছে৷
ঔষধের বাজেট বৃদ্ধি, বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি দেওয়ার জন্য দুজন চিকিৎসক, দুজন নার্স, দুজন ফার্মাসিস্ট এবং দুইজন অফিস সহায়ক নিয়োগের জন্য আবেদন করেছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, এই ব্যাপারে ডাক্তারদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তব্যরত ডাক্তাররা এখানে চাকরি করে, শহরে বিভিন্ন হাসপাতালে প্র্যাকটিস করে। তাদের রিফর্ম করা যাবে না, বেশি চাপ দিলে তারা চাকরি ছেড়ে চলে যাবে। এক্ষেত্রে আরো ডাক্তার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যারা বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি দিবে। আমরা ওষুধের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি।
শুক্র-শনিবার মেডিকেল সেন্টারে ডাক্তার থাকবে কিনা সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আমার একার সিদ্ধান্তে হবে না, আলোচনা করে দেখব।