ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা’ সূর্য সেন হলে নির্মিত হয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব চত্বর’। হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দেড় লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে চত্বরটি।
সরেজমিন দেখা যায়, হলটির লেকপাড়ে নির্মিত হয়েছে এই জুলাই বিপ্লব চত্বর। লাল ইটের গাঁথুনিতে গোলাকার এই চত্বরের মধ্যে ও চারপাশে শোভা পাচ্ছে বাহারি প্রজাতির বৃক্ষ। ছায়াঘেরা এই চত্বর যেন হয়ে উঠেছে ইতিহাসের ফেলা আসা দিনগুলোর এক নীরব সাক্ষী।
.png)
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে অনেক আগে থেকেই বসার জায়গা করার কথা ছিল। গত ৫ আগস্টের পর ছাত্র-শিক্ষক মতবিনিময়সভায় বসে এই দাবিটা তোলা হয়, যেন ঐ চত্বরের নাম জুলাই বিপ্লব চত্বর রাখা হয়। পরবর্তীতে হলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে ভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই বিপ্লব চত্বর' নামটি নির্ধারণ করা হয়।
হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যে একটি সরকারের পতন হয়ে দেশের অনেক প্রেক্ষাপটেরই পরিবর্তন হয়েছে। এটা তো এক জীবন্ত ইতিহাস! হয়ত আগামীতে এটি একাডেমিকভাবে ইনক্লুডও করা হতে পারে। সবমিলিয়ে হয়ে এমন স্থাপনা হয়ত যুগের পর যুগ সেই স্মৃতি বহন করে টিকে থাকবে।
এমন স্থাপনা নির্মাণে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে জানান হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন ভূইয়া। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে জুলাই অভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটির নামও নির্ধারণ করেছেন ছাত্ররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী বলেন, কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ ছিল; অনেক বাঁধা ও ছাত্রলীগের গালমন্দ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। পরে এই শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করে, সরকার পতন ঘটায়। অনেক ঘটনায় জড়িয়ে ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনের পেছনে। তবে একটি কথা এই জুলাই বিপ্লব যেন চিরকাল টিকে থাকে, সেটি প্রত্যাশা থাকবে যেন কেউ এর নাম বিকৃত না করে এক নীরব সাক্ষী হিসেবে রয়ে যায়।