বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে দেখা যায়, গত ৭ নভেম্বর গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের পূর্বতন চাকরিকাল গণনার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এর আগে ১৪ অক্টোবর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বেরোবির সাবেক এই উপাচার্যের সঙ্গে সখ্যতার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে আসীন করা হয়েছে। এছাড়াও তার পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
.png)
জানা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৃহৎ সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ দুর্নীতির ৭৯০ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। যেখানে নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগে উঠে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শারমিন সেখানে চারটি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে ছিলেন।
যোগদানের দুই মাস পার হতে না হতেই উপাচার্যের এ কাজকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৭ নভেম্বর) সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে ববির সব পদ ও কর্মকাণ্ড থেকে অনতিবিলম্বে অব্যাহতি ও ক্যাম্পাসে অবস্থানের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রক্টরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি আবেদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল।
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল মোল্লা বলেন, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা এক হয়ে লড়াই করতে বদ্ধপরিকর। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে সর্বাত্মকভাবে বয়কট করায় কোনোভাবেই ববিতে তার উপস্থিতি মেনে নেয়া হবে না।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সুজয় শুভ বলেন, কলিমুল্লাহ বিগত সময়ের বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ বিতর্কিত মানুষ। এমন বিতর্কিত একজনকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখে আমরা বিস্মিত ও হতবাক। আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। যদি না আসে, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার প্রশ্নে যৌথভাবে আবার প্রতিবাদে এগিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য যাকে দিয়ে কমিটি করলে ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন তাকেই তিনি দিতে পারেন।এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শারমিনকে কয়েকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।