রোববার সকালে জবি ক্যাম্পাসে আসার পথে রাজধানীর মহাখালীর বাস টার্মিনাল এলাকায় একতা পরিবহনের চালক ও হেলপারদের অতর্কিত হামলার শিকার হয় বাসটি।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বলেন, মহাখালী ইউটার্ন এলাকায় আমাদের বাসের সামনে একতা বাস অবস্থান করছিল। অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে পুরো রাস্তা ব্লক করে রেখেছিল। হর্ন দিলেও বাস সাইড দিচ্ছিলো না। এ ঘটনায় জবির উল্কা-৪ বাস চালকের সঙ্গে একতা বাসের চালকের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মহাখালী বাস টার্মিনালের প্রায় ৫০ জন হেলপার ও ড্রাইভার মিলে ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জবির বাস ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
.png)
জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান সোহাগ বলেন, একতা বাস এক জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে আমাদের বাসচালক মামা যখন একতা বাসের ড্রাইভারকে বলে তখন সে লাঠি দিয়ে আমাদের বাসচালক মামার ওপর হামলা চালায়। তারপর তাকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে আমরা বাঁধা দেই। তখন আমাদের ওপরও হামলা চালায়। বাসে মেয়েরা ছিল। তাদের উপরও ইট-পাথর ছুঁড়ে মারে।
জবির বাসচালক জগদীশ বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালে আমাদের গাড়ির সামনে একতার বাস ছিল। একতা বাসের সামনে কোনো গাড়ি ছিল না। তাদের বারবার সাইড দেওয়ার কথা বললেও তারা সাইড না দিয়ে বরং গাড়ি থেকে হেলপার ও ড্রাইভার লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। সেখানে একতা বাসের আরো অনেক কর্মচারী ছিল, তারাও আমাদের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা আমার হাত ভেঙে দিয়েছে এবং সারা শরীরে জখম করে করেছে। চোখে আঘাত করেছে।
এ বিষয়ে জবির পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, আমাদের ড্রাইভার জগদীশ মারাত্মক আহত। তার চোখ ঠিক থাকবে কি-না নিশ্চিত না। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও আহত হয়েছে। শুধু জবির বাস না, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেই এমন হামলা কাম্য নয়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর একতা বাসের ড্রাইভার, হেলপার পলাতক। জবির কোনো বাসে যেন এমন হামলা আর না হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, আমরা বিষয়টির একটি সুরাহা করেছি। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও একতা পরিবহনের মালিকপক্ষ এসেছিল। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস মেরামত, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও তারা ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে জানা গেছে, এই ঘটনার জেরে একতা পরিবহনকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার ঘটনার পর পরই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে মালিকপক্ষ। পরবর্তীতে দুই পক্ষের দীর্ঘ আলোচনায় এই জরিমানা ধার্য হয়।
এ নিয়ে ঢাকা জেলা বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের একটি বাসের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের ঝামেলা হয়। বিষয়টি আমি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে উপস্থিত থেকে সমাধান করেছি। আশা করছি ছাত্র ভাইরা বিষয়টি নিয়ে আর কিছু করবেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহজেই এই ধরনের সমঝোতাকে ভালোভাবে নিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মহাখালীর একই জায়গায় জবির বাসের মেয়েদের ইভটিজিং করাকে কেন্দ্র করে সৌখিন বাসের স্টাফদের হামলায় ৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।