এবার পোষ্য কোটা ফিরে পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন
গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পোষ্য কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। এবার পোষ্য কোটাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ দাবি করে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের প্রতিবাদ ও তা পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে কর্মকর্তা, সহায়ক কর্মচারী, সাধারণ কর্মচারী ও পরিবহন কর্মচারী সমিতির ব্যানারে এই আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে অফিসার সমিতির কোশাধ্যক্ষ মাসুদ রানা বলেন, জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরাও আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। বৃহৎ সেই আন্দোলনের ফলাফলই আজকের এই বাংলাদেশ। রাবিতে ভর্তিতে আমাদের সন্তানেরা ন্যূনতম যোগ্যতা নিয়েই ভর্তি হন। অযৌক্তিক কথা কথা বলে প্রশাসন ভবনে তালা মেরে আটকে রাখা কতটুকু যৌক্তিক। জিম্মি রেখে দাবি আদায় করা কখনোই সমর্থন করি না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের ন্যায্য অধিকার আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
.png)
অফিসার সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মোক্তার হোসেন বলেন, আমরা আজ প্যারিস রোডে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছি। আগামীকাল প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরা দুই ঘণ্টার ধর্মঘট থাকবে। এ ছাড়া আগামী ৮ তারিখ আমরা দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন করব। যত দিন পর্যন্ত না আমরা আমাদের অধিকার ফিরত না পাব, তত দিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এর আগে, গতকাল বেলা ১১টায় রাবি অফিসার সমিতির কার্যালয়ে মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সহায়ক কর্মচারী সমিতি, পরিবহন কর্মচারী টেকনিক্যাল সমিতি, সাধারণ কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রথম বর্ষে ভর্তিতে ইবি, ঢাবি, জাবি, চবিসহ সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করলেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দাবি আদায়ে মানববন্ধন, কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি ভর্তি কমিটির সভায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীর সন্তানের জন্য এক শতাংশ পোষ্য কোটা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে টানা ১১ ঘণ্টা আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এতে দুই উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, জনসংযোগ প্রশাসকসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেতরে আটকা পড়েন। ভোগান্তি বাড়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে। টানা অবরুদ্ধ থাকার পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তালা ভাঙার চেষ্টা করেন কর্মকর্তারা। ফলে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনের মুখে রাত ৯টার পর প্রশাসন ভবনে উপস্থিত হয়ে এক বৈঠকে পোষ্য কোটা সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব।