ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

চবির নতুন কলা ভবনে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হবে- উপাচার্য

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চবির নতুন কলা ভবনে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হবে- উপাচার্য
ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন উদ্বোধনের পর থেকেই এর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরার অভাব, ওয়াই-ফাইয়ের ব্যান্ডউইথ সংকট এবং নিরাপত্তাকর্মীর স্বল্পতায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

অনুষদের শিক্ষার্থী ফাতেমা বলেন, নতুন ভবনে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কম। এর সঙ্গে সম্প্রতি লোডশেডিংও হচ্ছে। কিন্তু জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও প্রজেক্টরের ব্যবস্থা নেই। এমনকি অনুষদের প্রধান ফটকেও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, অনুষদের অডিটোরিয়ামের কাজ এখনো শেষ হয়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে উল্লেখ করে তিনি জেনারেটর অথবা ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাবি জানান।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এসব সমস্যার কিছু অংশ সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও ডিনের উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াই-ফাইয়ের মতো কিছু বিষয়ে ডিনদের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে পারেন।

জেনারেটরের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, নতুন কলা অনুষদ ভবনের জন্য ইতোমধ্যে জেনারেটরের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে জেনারেটর নিয়মিত চালাতে গেলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হবে এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে।

এদিকে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনের তুলনায় নতুন কলা ভবনে উন্নত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো রয়েছে। তবে এখানে মূল সমস্যা ব্যান্ডউইথের সীমাবদ্ধতা। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ নেয়, তা থেকেই সব ভবনে বিতরণ করা হয়। তাই ব্যান্ডউইথ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

পুরো ভবনের জন্য জেনারেটর স্থাপনের দাবিকে বাস্তবসম্মত নয় বলে উল্লেখ করেন ডিন। তিনি বলেন, এমনকি ডিন অফিসেও জেনারেটর নেই। বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী আইপিএসের ব্যবস্থা করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা জেনারেটর স্থাপন করতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সক্ষমতা ও ব্যয় প্রয়োজন, যা বর্তমানে সম্ভব নয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!