সাজেকে বাবা হত্যায় ছেলে-ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে শান্তি লাল চাকমা হত্যা মামলায় তার ছেলে ও ভাতিজাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রাতের খাবার শেষে ছিলেন শান্তি লাল চাকমা। ওই রাতে তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন আসামিরা। পরে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়।
.png)
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হত্যার পর আসামিরা মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেন। ঘটনার আট দিন পর বাঘাইছড়ির কাচালং নদী থেকে শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ ছাড়া মামলার আসামি নিহতের ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। উপস্থিত আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি আলোময় চাকমা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ ইকবাল রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত নন। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী আরও বলেন, মামলার অপর আসামি আলোময় চাকমা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। রায়ের বিরুদ্ধে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।