ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

কাদেরসহ ৭ নেতার ফাঁসি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাদেরসহ ৭ নেতার ফাঁসি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

একই রায়ে পাঁচ আসামির সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট সময়ে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে।

জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই মামলার সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তাদের কেউ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা ছিলেন।

যেভাবে এগিয়েছে বিচার

২০২৫ সালের ১৮ জুন এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। সেদিনই ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগ আমলে নেন।

পরবর্তী সময়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। পরে ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান এবং বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনার অভিযোগও আনা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে।

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি সপ্তম রায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার চলছে।

এর আগে দুটি ট্রাইব্যুনাল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক ছয়টি মামলার রায় দিয়েছেন। এসব মামলায় মোট ৬১ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে ১১ জন পলাতক এবং চারজন কারাগারে রয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!