ঢাকা,  সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

গত ৩১ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও ইমাম হোসেন তারেক শুনানি করেন।

Advertisement

মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়। ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত।

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে গত বছরের ২১ মে মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের দেওয়া হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!