ঢাকা,  সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

তালা ভেঙে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নতুন উপাচার্য

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬
তালা ভেঙে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নতুন উপাচার্য
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২ এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি ভবনে প্রবেশ করেন।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে নতুন উপাচার্যের এ প্রবেশকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর কয়েকজন ব্যক্তি উপাচার্যকে চেয়ারে বসিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ১১ ও ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্যের ঢাকায় থাকার কথা ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিয়মিত পাহারা দেননি। এ সুযোগে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, আজকে সকালে উপাচার্য শেখ শরিফুল ছাত্রদলের সহায়তায় অবরুদ্ধ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আমরাও সেখানে অবস্থান নেই।

২০ দিন ধরে অচল চুয়েট

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ২০ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে চুয়েটে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক সমিতির সদস্যরাও। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনেও ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম।

গত ২১ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি।

এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলনের কারণে এতদিন তিনি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। গত ১০ অক্টোবর অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ রোববার (১১ অক্টোবর) উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই দিন প্রশাসনিক ভবন-২ এর সামনে বিক্ষোভ শেষে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেয় স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!