কোক স্টুডিও বাংলার গান বাজছে ভারতের সারেগামায়
গানের দেশ-কাল নেই- কথাটা প্রায়ই শোনা যায়। তবে সেখানে তারকা চিহ্ন দিয়ে ছোট করে লিখতে হবে- ‘শর্ত প্রযোজ্য’। কারণ শোনা পর্যন্ত ঠিক আছে; গাইতে গেলেই হতে পারে বিপত্তি! গানের মাঝে যদি চলে আসে মেধাস্বত্ব ইস্যু তাহলে দেশ-কালও কখনো কখনো অনেক বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ঠিক তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাঝে।
ছোট করে বললে, গান বানিয়েও বাজানোর অনুমতি নেই কোক স্টুডিও বাংলার। ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই ইউটিউব স্টুডিওর কমপক্ষে দুটি গান এখন বাজছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সারেগামা’র বাংলা চ্যানেলে।
গান দুটি হলো- শোনো গো দক্ষিণ হাওয়া ও হেই সামালো। ২০২২ সালের শুরুর দিকে ‘শোনো গো দক্ষিণ হাওয়া’ গানটি তৈরি আপলোড করা হয়েছিল কোক স্টুডিও বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে। এরপর কিছুদিন চললেও এখন আর এটি নেই স্টুডিওর ইউটিউব চ্যানেলে। তবে সেটি আছে সারেগামা বাংলার ইউটিউবে। ভারতের মধুবন্তি বাগচি ও তাহসান খানের গাওয়া এ গানটির তাহসানের অংশটি বাদ দিয়ে তারা আপলোড করেছে মাস নয়েক আগে।
.png)
সারেগামায় কোকের গান:
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় কোক স্টুডি বাংলার সঙ্গে। তাদের এই প্রজেক্টটি দেখভাল করছেন জিহাদ তাহজীব। তিনি বলেন, গান দুটির স্বত্ব সারেগামা ইন্ডিয়ার। আমরা এগুলোর ডিজাইন করার পর বিষয়টি জানতে পারি। তখন আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ভারতীয় মেধাস্বত্ব আইন অনুযায়ী আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তিও করেছিলাম। তবে তাদের চুক্তি অনুযায়ী এটি এক বছরের। প্রতিবছর নবায়ন করতে হবে। আমরা গান দুটির ক্ষেত্রে আর নবায়ন করিনি। আমরা যদি চুক্তি নবায়ন না করি তাহলে তারা তাদের মতো করে আমাদের গান ব্যবহার করতে পারবে। সে অনুযায়ী গানটি এখন সারেগামা বাংলায় দেখা যাচ্ছে।
‘শোনো গো দক্ষিণ হাওয়া’ গানটি মীরা দেব বর্মণের লেখা ও শচীন দেববর্মণের গাওয়া।
কোকের হেই সামালো:
তবে জিহাদের দেওয়া বক্তব্যে কিছু অসামঞ্জস্যতাও আছে। কারণ তার মতে, চুক্তি নবায়ন না করলেই তবে সারেগামা গানটি তাদের চ্যানেলে আপ করবে। কিন্তু ‘হেই সামালো’ গানটি সারেগামা ও কোক স্টুডিও বাংলা- চ্যানেল দুটোতেই আছে। এটি ১১ মাস ধরে সারেগামা চালাচ্ছে।
‘হেই সামালো’ গানটি সলিল চৌধুরীর। কোক স্টুডিও বাংলা এতে আব্দুল লতিফের ‘ওরা আমার মুখের কথা’ অংশটি যোগ করে। যা গেয়েছেন বাপ্পা মজুমদার, সামিনা চৌধুরী কণা, অর্ণব, আরমিন মুসাসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। সারেগামা বাংলা ‘ওরা আমার’র মুখের ভাষা অংশটি কেটে বাকিটুকু প্রকাশ করেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোক স্টুডি বাংলা প্রথম সিজন ঘোষণা দেওয়ার আগেই গানগুলো তৈরি করে। কপিরাইটের বিষয়টি জানতে পারার পর নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করা হয়। তবে অনড় ছিল সারেগামা। সেসময় বিস্তারিত গবেষণা ছাড়াই গান নির্বাচন করে কোক স্টুডিও বাংলা। যার মাশুল দিতে হয়, লাখ লাখ টাকা খরচ করে তৈরি ভিডিওটি হাতছাড়া করে।