গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, সৌদিগামী এয়ারলাইন্সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় পাকিস্তানের আগে ভারতের কাছে বিমানটি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু ভারত অনুমতি না দিলে পরে পাকিস্তানের করাচিতে বিমানটি অবতরণ করে।
.png)
খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৫ ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ভারতের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সী এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ফ্লাইটটি মাঝ-আকাশে থাকাকালীন আবু তাহের নামের ঐ যাত্রীর উচ্চ রক্ত চাপের পাশাপাশি বমি শুরু হয়। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এ সময় যাত্রীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পাইলট বিমানটিকে মুম্বাইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং জরুরি অবতরণের জন্য মুম্বাইয়ের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের (এটিসি) কাছে অনুমতি চান।
জিও নিউজ আরো জানায়, মুম্বাই এটিসির পক্ষ থেকে অসুস্থ যাত্রীর জাতীয়তা এবং অন্যান্য তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে মুম্বাইয়ে অবতরণের অনুমতি মেলে না। তখন বিমানের গতিপথ বদলে পাকিস্তানের করাচি শহরের দিকে যান পাইলট। পাকিস্তানের আকাশসীমা থেকে করাচির এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কাছে বিমানটির জরুরি অবতরণের অনুমতি চান তিনি। পরে অনুমতি মেলায় সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে সৌদিগামী ঐ বিমান।
বিমানটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএ) মেডিকেল টিম বিমানবন্দরে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে ঐ রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং চিকিৎসাসেবা দেন। পরে বিমানটি করাচি থেকে আবারো রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ঘটনাটিকে প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বসুলভ আচরণের পরিপন্থী মনে করছেন অনেকেই। বিষয়টিকে নেতিবাচক উল্লেখ করে কয়েকজন বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এ বিষয়ে ভারতের কাছে ফরমাল কমপ্লেইন লঞ্চ করা। কারণ, প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে এমন আচরণ খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ও সম্মান হানিকর।