বাংলাদেশি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে আরও বৃহৎ পরিসরে তুলে ধরতে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়া ইনক. আয়োজিত ‘স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬’। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সিডনির অন্যতম বৃহৎ এই বহুসাংস্কৃতিক উৎসবে ১৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সিডনির ফেয়ারফিল্ড শোগ্রাউন্ডে ১১ ঘণ্টাব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে আসা অতিথি শিল্পী, স্থানীয় শিল্পী এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশি-বিদেশি খাবার, কেনাকাটা, পারিবারিক বিনোদনসহ নানা আয়োজন থাকবে।
.png)
অলাভজনক সংগঠন চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছে ক্যাম্পবেলটাউন ঈগল স্পোর্টস।
উৎসবকে ঘিরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সিডনির মিন্টোতে অবস্থিত সৈয়দ পার্টনার্স কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্প্রিং ফেয়ারের সার্বিক পরিকল্পনা, স্টল ব্যবস্থাপনা, স্পন্সরশিপ, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পাশাপাশি মেলার রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও কমিউনিটিকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি সাইফ চৌধুরী বলেন, এই উৎসব শুধু বিনোদনের জন্য নয়। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও কমিউনিটিকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। স্পন্সর, কমিউনিটি পার্টনার এবং সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের আয়োজন আরও বড় ও সফল হবে বলে আমরা আশাবাদী।
চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি ও কার্যকরী সদস্য সৈয়দ আকরামউল্লাহ জানান, এবারের উৎসবে শিশু ও পরিবারের জন্য বিশেষ আকর্ষণ রাখা হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে রাইডের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি সন্তানদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের জন্য থাকবে প্যারেন্টাল প্লেস।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজার প্রায় এক সপ্তাহ আগে আয়োজনটি হওয়ায় এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কেনাকাটারও একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সহসভাপতি সৈয়দ বাকের জানান, আগ্রহী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এখনো সীমিত সংখ্যক স্টল ও স্পন্সরশিপের সুযোগ রয়েছে। তিনি দ্রুত নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ হাজারের বেশি সম্ভাব্য দর্শনার্থীর কাছে তাদের ব্র্যান্ড তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
আয়োজকদের বিশ্বাস, বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে ‘স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬’ সিডনির অন্যতম বৃহৎ বহুসাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশি সংস্কৃতি, পারিবারিক বিনোদন, সামাজিক সম্প্রীতি ও ব্যবসায়িক সংযোগের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।