হিন্দু ধর্মমতে, প্রতি বছর শরৎকালে দেবী দুর্গা কৈলাস পর্বত থেকে কন্যারূপে মর্ত্যে আসেন এবং তার এই আগমন ঘিরেই শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসবের আমেজ। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এই পাঁচদিন ধরে চলে পূজা। লীডসের দুর্গাপূজা অ্যাসোসিয়েশন, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এই পূজা উদযাপনের কেন্দ্রস্থল, এবারও মহাসমারোহে আয়োজন করেছে এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
উৎসবের সূচনা হয় শুক্লা ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মাধ্যমে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজায় দেবীকে নিবেদিত অঞ্জলি, ধূপ আরতি, এবং বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে দুর্গাপূজার, যা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য আবেগঘন এক মুহূর্ত সৃষ্টি করে। বিসর্জনের সময় ঢাকের বাদ্য, ভক্তদের কণ্ঠে বিদায়গান এবং অশ্রুসিক্ত চোখে দেবীর বিদায় প্রবাসীদের মধ্যে মাতৃভূমির পূজা উদযাপনের স্মৃতিকে আবারও উজ্জীবিত করে।
.png)
এ বছর লীডসে দুর্গাপূজা উদযাপন ছিল বিশেষভাবে উৎসবমুখর। দুর্গাপূজা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৌর বসু জানান, এবারের পূজায় লীডসের সবচেয়ে বড় পূজামণ্ডপে মানুষের উপচে পড়া ভিড় বিগত সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিমা দর্শন, অঞ্জলি প্রদান, সিঁদুর খেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসে থেকেও দেশীয় পূজার সব আচার-অনুষ্ঠান অত্যন্ত সঠিকভাবে পালিত হয়েছে। সিঁদুর খেলায় নারী ভক্তদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও পূজার রেশ এবং উৎসবের উচ্ছ্বাস লীডসের প্রবাসী বাঙালিদের মনে থেকে যাবে আরো অনেকদিন।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও লীডসে শারদীয় দুর্গাপূজার রেশ থেকে যাবে আরো কিছুদিন।