ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

কাগজের মুদ্রা বানানোয় ইউরোপ কেন পিছিয়ে পড়েছিল?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১
কাগজের মুদ্রা বানানোয় ইউরোপ কেন পিছিয়ে পড়েছিল?
ইউরোপ যে কারণে কাগজের মুদ্রা বানানোয় পিছিয়ে পড়েছিল। ছবি সংগৃহীত

ট্যাঙের রাজত্বকালে বাণিজ্যিকভাবে চীনারা ব্যাপক প্রসার লাভ করতে শুরু করে। তখন লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হতো স্বর্ণ আর রৌপ্যের ধাতব মুদ্রা। যা ছিল বেশ মূল্যবান। তখনকার যুগে নৌপথই ছিল বাণিজ্যিক একমাত্র মাধ্যম। তবে মূল্যবান মুদ্রা নিয়ে জলদস্যুদের কারণে নৌপথে যাতায়াত ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

তাই ব্যবসায়ীদেরকে জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নির্বিঘ্নে বাণিজ্য করার জন্য চীনারা সর্বপ্রথম কাগজের মুদ্রা বা নোট বানিয়েছিল। এর প্রায় ৬০০ বছর আগে তারা মালবেরি গাছের বাকল থেকে কাগজ বানাতে শিখেছে। তবে গাছের বাকল দিয়ে বানানো কাগজগুলো ওজনে ছিল বেশ ভারী। তারা পরবর্তীতে কাগজের ওজন কমানোর জন্য বাকলের পরিবর্তে গাছের কান্ডের নরম অংশ কেটে কাগজ বানাতে শুরু করেন।

চীনের প্রথম দিককার কাগজের নোটকাগজের নোটটি ছিল মূলত একটি অঙ্গীকারনামা। তখনকার চীনা রাষ্ট্রীয় কোষাগার ব্যবসায়ীদেরকে তাদের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা বিনিময়ে কাগজের একটি অঙ্গীকারনামা প্রদান করতো। যার একশ আউন্স স্বর্ণ মুদ্রা আছে, সে চাইলে কোষাগারে সে সব জমা রাখতে পারতো। আর অঙ্গীকারনামাতে লিখিয়ে নিতে পারতো যে কাগজের অঙ্গীকার নামার বিনিময়ে সে তার জমাকৃত মুদ্রা ফেরত পাবে।

Advertisement

অঙ্গীকারনামাকাগজের নোট আবিষ্কার তখনকার যুগের জন্য একটি বিপ্লব বই এনেছিল। ব্যবসায়ীরা দলে দলে স্বর্ণমুদ্রা কোষাগারে জমা রেখে কাগজের নোটের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেছিল। এতে করে তাদেরকে ঝুঁকি নিয়ে মূল্যবান মুদ্রা আর বয়ে বেড়াতে হতো না। লেনদেনের মাধ্যমে সহজলভ্য হয়ে গিয়েছিল। সোনা, রুপা বা তামার মুদ্রার বিনিময়ে তারা যে কাগজের নোটটি পেতো সেটিকে বলা হতো হেকান বা টাকা।

ট্যাঙের পর মীনের রাজত্বকালে কাগজের নোটএখনকার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যেটিকে বলা হয় ফিয়াট মানি। ট্যাঙের পর মীনের রাজত্বকালে কাগজের নোট নিয়ন্ত্রণের জন্য বানানো হলো অর্থ মন্ত্রণালয়। লেনদেনের জন্য বানানো হলো বিভিন্ন মানের টাকার নোট। মোট ছয় ধরনের নোট বানানো হয়েছিল। ১০০, ২০০, ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ ওয়েনের নোট। আর ছিল এক কুয়েন সমমূল্যের নোট। এক কুয়েনের মূল্য ছিল এক হাজার তাম্র মুদ্রা বা এক লিয়াং রৌপ্যমুদ্রার সমান। আর চার কুয়েন ছিল এক লিয়াং স্বর্ণমুদ্রার সমান।

মজার বিষয় হচ্ছে তখনো ইউরোপ কাগজের নোট সম্পর্কে কিছুই জানতো না। তখনকার ভেনিস শহরের একজন ব্যবসায়ী এবং পর্যটক মার্কো পোলো চীনে আসার পর প্রথম কাগজের নোট সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি দেশে ফিরে গিয়ে সবাইকে চীনাদের স্বর্ণমুদ্রার পরিবর্তে কাগজের নোট ব্যবহার করার কথা জানালেন। তবে তার কথা কেউই বিশ্বাস তো করলোই না, উল্টো তাকে উন্মাদ বলে অভিহিত করলো।

মার্কো পোলো
স্বর্ণের মুদ্রা যে কাগজের মূল্যের সমান হতে পারে এটি তাদের কাছে অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার ছিল। তার কথা বিশ্বাস না করার কারণেই ইউরোপিয়ানরা কাগজের নোট বানানোর দিক থেকে পিছিয়ে গেল আরো ৬০০ বছর। তারা তখনো এ ব্যবস্থার ধারে কাছে যায়নি। চীনে তখন প্রয়োজনমতো নোট ছাপানো হলেও সেই নোট কখনো ফেরত নেওয়া হতো না। ফলে মারাত্মক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় পুরো চীন জুড়ে।

চীনের প্রাচীন কিছু ধাতব মুদ্রাএকসময় ইউরোপিয়ানরা কাগজের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল। ১৬৬১ সালে সুইডেন প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে অর্থমুদ্রা হিসেবে কাগজের নোটের প্রচলন শুরু করে। কাগজের নোটের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আমেরিকানদের আরো লম্বা সময় লেগেছে। ১৬৯০ সালের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস বে কলোনিতে কাগজের নোট মুদ্রণের প্রস্তাব করা হয়। এর দীর্ঘ ৬০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কাগজের নোট ছাপানো হয়।

ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজরা সর্বপ্রথম কাগজের নোট প্রচলন শুরু করে। ভারত এবং পাকিস্তানের অধীনে থাকাকালীন বাংলাদেশিরা রুপি ব্যবহার করতো। পরে দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি টাকার প্রচলন শুরু করা হয়। বর্তমানে গাজীপুরে অবস্থিত টাকশালে বাংলাদেশি টাকা ছাপানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!