এই খৎনা করানোর আগে ও পরে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সেগুলো হলো-
খৎনা করানোর কারণ
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মুসলিম ছেলে শিশুদের খৎনা করানো হয়। আবার জন্মগতভাবে কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রেও খৎনা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। যেমন লিঙ্গের অগ্রভাগের ছিদ্র ছোট থাকলে, বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে। অনেকের চামড়া গ্লান্স লিঙ্গের পেছনে আটকা পড়ে ব্যথা হয়, তাদেরও খৎনা করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
.png)
মেডিকেলের ভাষায় এই দুটি অবস্থাকে বলা হয় ফাইমোসিস ও প্যারাফাইমোসিস। এছাড়া কারো কারো জন্য আবার খৎনা করা নিষেধ। অনেকেরই হিমোফিলিয়া নামক রক্তরোগ থাকে, তাদের খৎনা করতে নিষেধ করা হয়। কেননা, এ রোগীর কাটাছেঁড়া করলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হতে চায় না। এছাড়া অনেকের প্রস্রাবের নালির ছিদ্র ভিন্ন জায়গায় হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগীদের নালি ঠিক করার জন্য অস্ত্রোপচারের সময় লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়ায় পুনরায় নালি তৈরিতে প্রয়োজন হয়। এজন্য তাদের খৎনা করাতে নিষেধ করা হয়।
কোন বয়সে সন্তানের খৎনা করাবেন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন সময় বেছে নেয়া হয় খৎনার জন্য। কোনো কোনো দেশে সন্তান জন্মের পরই খৎনা করানো হয়। আর এ সময় সন্তান ব্যথাবোধ খুব একটা করতে পারেন না। এতে অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষত শুকিয়ে যায় শিশুর। তবে সন্তানের খৎনার জন্য ৪ থেকে ১২ বছর বয়স ভালো। এ সময় খৎনা করলে শিশুর খুব বেশি সমস্যা হয় না।
বেশি ছোট শিশুদের খৎনা না করানো ভালো। তারা ভয় পায় ও কান্নাকাটি করে। আবার বয়স বেশি হলে তাদের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ইরেকশনের জন্য রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর সন্তানের খৎনার আগে তাকে বাড়ি থেকে সবার সাহস দিতে হবে। কখনোই সন্তানকে না বলে, তার ইচ্ছার বিপরীতে খৎনা করাতে যাবেন না। দেখা যাবে জোর করে খৎনা করাতে গিয়ে সার্জারির সময় সন্তান আঘাত পেতে পারে বা সমস্যা হতে পারে।
এছাড়া আধুনিক যুগে কিছু ডিভাইস রয়েছে। যা লেজারের মাধ্যমে খৎনার সার্জারি করে থাকে। তবে ডিভাইস দিয়ে খৎনা করানোর আগে জানতে হবে, ব্যবহারকারী চিকিৎসক এ ব্যাপারে কতটা প্রশিক্ষিত। আবার লোকাল অ্যানেসথেসিয়া বা জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমেও অস্ত্রোপচার করা যেতে পারে। যদি জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয় তাহলে সন্তানকে ৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হবে। কিন্তু দেশে অবেদনবিদ ও এনআইসিইউ সুবিধা নেই বলে অনেক সময় সন্তানের মৃত্যু হয়। এ জন্য সন্তানের খৎনা বা অস্ত্রোপচারের আগে কোন ধরনের অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করা হবে এ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেয়া উচিত।
খৎনার পর জটিলতা এড়াতে করণীয়
খৎনার ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারে যে জটিলতা বেশি হয়ে থাকে তা হচ্ছে রক্তপাতজনিত সমস্যা। অনেক সময় দেখা যায় সন্তানকে বাড়ি আনার পর পুনরায় রক্তপাত শুরু হয়। রক্তপাত বেশি হলে কাপড় দিয়ে প্রথমে চেপে ধরে রাখতে হয়। এরপরও যদি রক্তপাত না কমে তাহলে চিকিৎসকের কাছে যান।
সন্তানের খৎনার পর লিঙ্গে কোনো ধরনের ইনফেকশন কিংবা অগ্রভাবে ক্ষত হয় কিনা, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য সঠিক ড্রেসিং ও ওষুধ খেতে হবে। এতে ঠিক হয়ে যায়। সন্তানের যদি লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়, তাহলে কখনো কখনো লিঙ্গের গোড়া তিন-চারদিন ফোলা থাকার সম্ভাবনা তাকে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
এছাড়া খৎনার সপ্তাহখানেক পর (এক সপ্তাহ) ক্ষত জায়গা থেকে সামান্য রক্তমিশ্রিত পানির মতো তরল বের হতে পারে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঠিক হয়ে যায়। সন্তানকে নিয়মিত হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে। এতে ক্ষতস্থান দ্রুত সেরে যায়। খৎনার পর ঢিলে কাপড় বা লুঙ্গি পরান সন্তানকে, এতে ব্যথা কম অনুভব হবে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ক্ষত সেরে যায়, তাহলে আগের মতো স্বাভাবিক পোশাক পরতে পারবে শিশু।