ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করতে চন্দ্রমল্লিকা
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসে নিখিলেশ জানিয়েছিল, ‘নানা টবে নানা রঙের চন্দ্রমল্লিকায় সে তার বাগান সাজিয়েছিল। আর গাছে ফুল এলে নিখিলেশের মনে হত, ‘সবুজ সমুদ্রে ঢেউ লেগে নানা রঙের ফেনা উঠেছে।’
চন্দ্রমল্লিকা (Chrysanthemum) একটি ফুলের নাম। শব্দটি গ্রিক থেকে এসেছে। ক্রিসস অর্থ 'সোনা' এবং এনথিমাম অর্থ 'ফুল' অর্থাৎ সোনার ফুল বা সোনালী ফুল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Chrysanthemum indicum L.। অন্যান্য স্থানীয় নামের মধ্যে - চন্দ্রমুখী, chrysanthemum, Gul dawoodi উল্লেখযোগ্য।
চন্দ্রমল্লিকা গাছ ৫০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। বৃহদাকৃতির ফুলগুলো সচরাচর সাদা, হলুদ অথবা পটল বর্ণের হয়। ফুলটির অপর একটি নাম হল 'সেবতি' । সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। ডিসেম্বরে ফুল আসতে শুরু করে। এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয়। বিভিন্ন রঙের এই ফুলগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমূল্য রয়েছে প্রথম সারিতে। বীজ, সাকার ও শাখ কলম থেকে চন্দ্রমল্লিকার চারা তৈরি কার যায়। বীজ থেকে চারা করলে তা থেকে ভাল ফুল পাওয়া যায় না এবং ফুল পেতে অনেক দিন লেগে যায়। অন্য দিকে ডাল কেটে শাখা কলম করলে বা সাকার থেকে চারা করলে এ সমস্যা থাকে না।
.png)
চন্দ্রমল্লিকা গাছে ফুল তাজা থাকে ২০ থেকে ২৫ দিন। চন্দ্রমল্লিকা ফুল কুঁড়ি অবস্থায় তুললে ফোঁটে না। বাইরের পাপড়ি গুলো সম্পূর্ণ খুলে গিয়েছে এবং মাঝের পাপড়ি গুলো ফুটতে শুরু করেছে এমন অবস্থায় খুব সকালে অথবা বিকেলে ধারালো ছুরি দিয়ে দীর্ঘ বোঁটাসহ কেটে ফুল তুলে ফেলতে হয়।
জাত ভেদে এর ফলন কম বেশি হয়। তবে গাছ প্রতি বছরে গড়ে ৩০-৪০ টি ফুল পাওয়া যায়। ফুলদানি সাজানোর জন্য লম্বা ডাঁটাসহ এবং মালা গাঁথার জন্য ডাঁটা ছাড়া ফুল তোলা হয়। বাংলাদেশে শীতকালই এই ফুল চাষের উত্তম সময়। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ সুনিস্কাশিত দোআঁশ ও বেলে মাটি চন্দ্রমল্লিকা চাষের জন্য উপযোগী। চন্দ্রমল্লিকার অনেকগুলো প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশ তিনটি প্রজাতি বিশেষভাবে পরিচিত যথা- তিন রঙা চন্দ্রমল্লিকা, তোরা চন্দ্রমল্লিকা, মালীর চন্দ্রমল্লিকা। বাণিজ্যিকভিত্তিতে যেগুলোর চাষ হয়, সেগুলোকে প্রধানত দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয় – ছোট ও বড়৷
চন্দ্রমল্লিকার রয়েছে দারুণ সব ঔষধি গুণাগুন। জেনে নিন-
১. চন্দ্রমল্লিকার রস খেলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা ভালো হয়।
২. চন্দ্রমল্লিকার রস খেলে জ্বর দ্রুত ভালো হয়।
৩. চন্দ্রমল্লিকার রস চোখে দিলে চোখের লালভাব কেটে যায়।
৪. চোখ হঠাৎ ফুলে গেলে ফোলা চন্দ্রমল্লিকার রস ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।
৫. চন্দ্রমল্লিকার রস দিয়ে চা বানিয়ে খেলে মাথা ব্যথা দ্রুত ভালো হয়।