সম্প্রতি, ক্যাবট ও লাফলিনের এক গবেষণাপত্র ‘লুনার এক্সপ্লোরেশন অ্যাজ এ প্রোব অফ এনসায়েন্ট ভেনাস’ নামে একটি মহাকাশ বিজ্ঞানসংক্রান্ত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ক্যাবট ও লাফলিনের মতে, মহাজাগতিক নিয়মে কখনো না কখনো শুক্রের উপর কোনো ধূমকেতু এসে পড়ায় বা গ্রহাণুর সঙ্ঘর্ষে এর পৃষ্ঠতল থেকে ১০ বিলিয়নেরও বেশি পাথর বা মাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে শুক্রের কক্ষপথ থেকে ছিটকে গিয়ে এই ভাসমান অবশিষ্টাংশগুলি চাঁদে গিয়ে পড়ে। অর্থাৎ চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জেরে শুক্রের গ্রহাণুগুলি চাঁদে পতিত হয়। এ ক্ষেত্রে এগুলি পৃথিবীতে এসে পড়তেও পারে।
.png)
বিজ্ঞানীদের কথায়, যদি পৃথিবীর উপর এসে পড়ে, তা হলে তা বহুকাল আগেই মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়ে থাকবে। কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে এমনটা নয়। চাঁদে যদি কোনো গ্রহাণু পড়ে থাকে, তা হলে তা হয়তো এখনো অক্ষত থাকবে। তাই এই মহাকাশ বিজ্ঞানীদের যুক্তি, দূর থেকে শুক্রকে নিয়ে গবেষণা করতে গেলে, চাঁদের উপর থাকা এ ধরনের মাটি ও নুড়ি-পাথর নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাই অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।
এ বিষয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে এই গ্রহ বর্তমানে বাসের অযোগ্য। তবে চিরকাল এভাবে নাও থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো এই গ্রহ বাসের যোগ্য হয়ে উঠতে পারে। কারণ তথ্য বলছে আজ থেকে ৭০০ মিলিয়ন বছর আগে এখানেই জলভাগের অস্তিত্ব ছিল।
প্রসঙ্গত, মহাকাশবিজ্ঞানীদের কাছে শুক্র ক্রমশ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সম্প্রতি এই গ্রহের পৃষ্ঠতলে ফসফিনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের কথায় ফসফিন সাধারণত কোনো অণুজীব বা ভূরাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর এখান থেকেই বিজ্ঞানীদের অনুমান এই গ্রহে কোথাও কোনো ভিনগ্রহীর অস্তিত্বও মিলতে পারে।
হয়তো খুব তাড়াতাড়ি এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। সম্প্রতি নাসা এক ঘোষণায় প্রাইভেট স্পেস মিশন থেকে চাঁদের মাটি কেনা ও তা নিয়ে নানা গবেষণার কথা জানিয়েছে। নাসা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্স, চিনের অরিজিন স্পেসসহ নানা সংস্থা এ নিয়ে জোরকদমে পরিকল্পনা শুরু করেছে।
সূত্র: নিউজ ১৮