প্রথমবারের মতো পেন্টাগন প্রধান হচ্ছেন একজন নারী
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন রেকর্ড করতে যাচ্ছেন। এবার তিনি পেন্টাগনের মতো স্পর্শকাতর স্থানে আরো একজন নারীকে প্রধান করতে যাচ্ছেন। তিনি হলেন মিশেল ফ্লোরনয়।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলে পরিচিত পেন্টাগনের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তিনি। এর আগে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সঙ্গে নিয়ে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন বাইডেন।
সংবাদ সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বাইডেন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক নারীকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন। যদি এমনটা হয়, তাহলে মিশেল ফ্লোরনয় হতে যাচ্ছেন এই পদে যাওয়া মার্কিন ইতিহাসের প্রথম নারী।
.png)
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে পেন্টাগনের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এবং বারাক ওবামার আমলে আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মিশেল ফ্লোরনয়কেই পরবর্তী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন বাইডেন। আর তা সত্যি হলে ফ্লোরনয় প্রথম নারীপ্রধান হচ্ছেন পেন্টাগনের।
পেন্টাগনের ইতিহাসে গত চার বছর ছিল সবচেয়ে অস্থির সময়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদকালে পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে এসেছেন পাঁচজন। সর্বশেষ এই পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মার্ক এসপারকে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মিশেল যদি শেষ পর্যন্ত এই পদে মনোনীত হন, তবে তাকে শুরুতেই বেশ ঝামেলা সামলাতে হবে। বাইডেনের প্রতিশ্রুতি অনুসারে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বিতরণে সেনাসদস্যদের কাজে লাগাতে হবে তাকে। শুধু তাই নয় এ কাজ করতে হবে তাকে কম টাকার মধ্যেই।
জো বাইডেনের উপদেষ্টাদের একজনের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা অনেক আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নারীদের নিয়োগ দিতে চাইছে; বিশেষত যেসব পদে নারীরা এর আগে কখনো আসেননি, সেসব পদে তাদের নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা অনেক আগের। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন জয়ী হলে মিশেল ফ্লাওনোয়িকে পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে আনার পরিকল্পনা ছিল। এ কারণে বাইডেনের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় ফ্লাওনোয়ির থাকাটা এক রকম নিশ্চিত ধরা যায়।
১৯৯০ এর দশকে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ শুরু করেন মিশেল ফ্লাওনোয়ি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন বাহিনীর সমন্বয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ফলে দায়িত্ব পেলে তিনি যে ভালো করবেন, সে বিশ্বাস মার্কিনিদের আছে।