মঙ্গলবার এ নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে হত্যা, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানিসহ সহিংসতার বিষয়ে গতকালই মামলার ঘোষণা দেয়া হয়। মামলায় ঘাঁটির প্রধান জেনারেল স্কট এফল্যান্ড এবং জেফারি ব্রডওয়াটার অন্তর্ভুক্ত আছেন।
.png)
মার্কিন সেনা সচিব রায়ান ম্যাকার্থি এ ব্যাপারে বলেন, ‘ফোর্ট হুডে মার্কিন সেনা সদস্য ভেনেসা গিলেনের হত্যাকাণ্ড আমাদের হতবাক করেছে। সেখানকার আরও গভীর সমস্যাগুলোও আমাদের নজরে এসেছে। এটা আমাদের কার্যক্রম, নীতিমালা এবং আমাদের নিজেদের সমালোচনা করতে বাধ্য করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফোর্ট হুডে নেতৃত্ব নিয়ে ঝামেলাগুলো এসব সমস্যার কারণ।’ সেনাবাহিনীর নিখোঁজ সদস্যদের জন্য নতুন নীতিমালা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
চলতি বছর জুনের শেষাংশে মার্কিন নারী সেনা সদস্য ভেনেসা গিলেনের মরদেহ উদ্ধার হয়। এর আগে প্রায় দুমাস তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
তদন্তকারীরা বলছেন, তাকে ফোর্ট হুডে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ভেনেসার মৃত্যুতে অ্যারন রবিনসন নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হয়। গত ১ জুলাই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি আত্মহত্যা করেন।
বিবিসি আরো জানিয়েছে, ভেনেসা গিলেনের পরিবারের অভিযোগ, অ্যারন রবিনসন তাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিনসনের বিরুদ্ধে ভেনেসাকে যৌন নির্যাতন বা লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে অভিযোগ করেছেন, তার কোনো প্রতিবেদনে নেই। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
ভেনেসার বোন বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমার বোন একজন মানবিক মানুষ এবং আমি তার হত্যার ন্যায় বিচার চাই।’
এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মঙ্গলবার মার্কিন সেনাবাহিনী এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার পর দেখা যায়, গত এক বছরে ফোর্ট হুডে নিযুক্ত ২৫ সেনা আত্মহত্যা, হত্যা বা দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘একজন জ্যেষ্ঠ নেতার উপর যখন তার অধীনস্তরা বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তখন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়াই উপযুক্ত এবং প্রয়োজনীয়।
মার্কিন সেনা সচিব রায়ান ম্যাকার্থি যে নীতিমালা গ্রহণ করেছেন, সেখানে সেনা কামন্ডারদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ বা অনুপস্থিত সদস্যদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। ওই সেনাদের শনাক্তের পর তাদের অনুপস্থিতির কারণ জানা হবে।