প্রকাশ্যে এলো বিল গেটসের বিচ্ছেদের নেপথ্যের কারণ!
কিছু দিন আগে দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের বিল গেটস এবং মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। তবে নতুন খবর হচ্ছে, গত সপ্তাহে তারা এ ঘোষণা দিলেও, তাদের সম্পর্কে ফাটল শুরু হয় মূলত ২০১৯ সাল থেকে। কারণ ওই বছর অক্টোবরে মেলিন্ডাকে আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে।
বিল গেটস ও মেলিন্ডার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন মেলিন্ডা। তিনি বলেছিলেন, তাদের বিয়েটা ‘অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে’ গিয়েছিল।
গত ৩ মে এক যৌথ টুইটার বার্তায় বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন কোটিপতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা। তারা বলেন, আমরা আর একসঙ্গে পথ চলতে পারবো বলে আমাদের মনে হয় না। নিজেদের সম্পর্কের ওপর অনেক নিরীক্ষা ও চিন্তা-ভাবনার পর আমরা আমাদের সংসারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
.png)
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও বিচ্ছেদের স্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি এই দম্পতি, তবে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সাবেক কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মেলিন্ডার উদ্বেগের কারণ হলো, দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফরি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের যোগাযোগ ছিল। ২০১৩ সাল থেকে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন মেলিন্ডা। যা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি মেলিন্ডা। আর তার সূত্র ধরেই সম্পর্কে তিক্ততা আসতে শুরু করে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে শিশু, কিশোর পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই শিশু কিশোরদের নাকি যৌন দাস হিসেবে ব্যবহার করা হত। এমনকি তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের আগস্টে জেলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গিয়েছিল।
তবে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে বিল গেটসের যোগযোগ ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি বিল গেটস, জেফরির ম্যানহাটন, নিউ ইয়র্কের বাড়িতে একাধিকবার দেখা করেছেন। সময় কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে।
যদিও বিল গেটসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জেফরির সঙ্গে বিলের যোগাযোগ কেবল আর্থিক কারণেই ছিল। তবে মেলিন্ডা নাকি ২০১৩ সাল থেকেই বিল এবং জেফরির যোগাযোগের বিষয়টি জানতেন। এ নিয়ে মেলিন্ডা মোটেই স্বস্তি বোধ করতেন না বরং উদ্বেগে ছিলেন। শেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসে যায়। এরপর মেলিন্ডা বিচ্ছেদের কথা ভাবতে শুরু করেন। আইনজীবীদের সঙ্গেও পরামর্শ করছিলেন বিষয়টি নিয়ে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আনন্দবাজার পত্রিকা