অবশেষে সাগরে ভাসমান ১২০ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে সম্মত ইন্দোনেশিয়া
আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর আহ্বানে সাগরে ভাসতে থাকা ১২০ রোহিঙ্গাকে কূলে ভিড়তে দিতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আরমেদ ওয়াইজায়া এক বিবৃতিতে বলেন, মানবতার খাতিরে বর্তমানে আচেহ প্রদেশের বিয়েরুন জেলার কাছে ভাসমান একটি নৌকায় থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। শরণার্থীরা নৌকায় যে অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে, তা জরুরি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে এর আগের দিন গত মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, নৌকায় থাকা ১২০ রোহিঙ্গাকে তারা খাবার, পানি ও ওষুধ সরবরাহ করবেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক অনুরোধ রেখে তাদের শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।
.png)
ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় দুই জেলে বলেন, উপকূলে আটকে থাকা নৌকাটি কয়েক দিনের মধ্যে ডুবে যেতে পারে। নৌকাটির দুই জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। সেখানে পানিও ঢুকে পড়েছে। নৌকায় থাকা অধিকাংশ যাত্রী নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্দোনেশিয়ার প্রতি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীর বর্বর নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে থেকেই এ দেশে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। বাংলাদেশের মতো ছোট আয়তনের জনবহুল দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে এই শরণার্থী সমস্যা। এই সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মহলের নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও তাদের সহায়তা দিন দিন কমছে। ফলে উন্নত জীবনের আশায় প্রায়ই শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে সমু্দ্র পথে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে থাকে রোহিঙ্গারা।
সূত্র: আল-জাজিরা