তারা বলছেন, কৃত্রিম সূর্যের নিউক্লিয়ার ফিউশন বা কেন্দ্রকীয় সংযোজন প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিপুল শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব হবে। একাধিক হালকা নিউক্লিয়াই সংযোজিত হয়ে তুলনামূলক ভারী নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় বিপুল শক্তি।
আরো পড়ুন: ট্রাম্পের ছেলে-মেয়েকে আদালতে তলব
.png)
শিনহুয়া নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, চীনের আনহুই প্রদেশের হফেই শহরের ‘এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকন্ডাক্টিং টকামাক (ইএএসটি)’ নামের নিউক্লীয় ফিউশন চুল্লিতে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এটি হফেই ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল সায়েন্সের অংশ। চুল্লিটির ধারণ ক্ষমতার আরো বাড়ানোর চেষ্টা করছেন গবেষকরা। এই গবেষণাগারকে আসল সূর্যের নিউক্লীয় ফিউশনের প্রক্রিয়া অনুকরণ করা হয়। তাই তাকে কৃত্রিম সূর্য বলা হয়। এ বিক্রিয়ায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় হাইড্রোজেন ও ডিউটেরিয়াম গ্যাস।
আরো পড়ুন: বিমানের টয়লেটে ময়লার ঝুড়ি থেকে নবজাতক
এ কৃত্রিম সূর্য তৈরির মূল উদ্দেশ্য জ্বালানি চাহিদার পরিবেশবান্ধব উৎস তৈরি করা। সমুদ্রের এক লিটার পানি থেকে যে পরিমাণ ডিউটেরিয়াম গ্যাস পাওয়া যাবে, তা নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে পাওয়া শক্তি ৩০০ লিটার গ্যাসোলিন পুড়িয়ে পাওয়া শক্তির সমান। এতে প্রচুর পরিমাণ ডিউটেরিয়াম আহরণ সম্ভব।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃত্রিম সূর্য ৭ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ১৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড পর্যন্ত গবেষকরা পরিচালনা করেন। আর মূল সূর্যের কেন্দ্র দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তপ্ত হতে পারে।
২০০৬ সাল থেকে চীনের ইএএসটি গবেষণাগারে বিশ্বের নানা দেশের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ৭০ কোটি ১০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড খরচ করেছে চীন। এ পরীক্ষণটি শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বরে। চলবে আগামী জুন পর্যন্ত।