ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

এরদোয়ানকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য, তুরস্কে সাংবাদিক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:০৯, ২৩ জানুয়ারি ২০২২
এরদোয়ানকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য, তুরস্কে সাংবাদিক আটক
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে উদ্দেশ করে অপমানজনক মন্তব্য করায় দেশটির এক নারী সাংবাদিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। শনিবার সাদিফ কাবাস নামের ওই সাংবাদিককে আটক করা হয়। রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।

সংবাদমাধ্যম এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ২টায় সাংবাদিক সাদিফ কাবাসকে আটক করে পুলিশ। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট এরদোগান সম্পর্কে বিতর্কিত ওই মন্তব্য করেন এবং পরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম টুইটারে পোস্ট করেন। টুইটারে তার ৯ লাখ অনুসারী রয়েছেন। পরে আদালতে হাজিরের পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

প্রেসিডেন্টকে অপমান বা অপমানজনক মন্তব্য করা তুরস্কের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। বর্তমান আইন অনুযায়ী, তুরস্কে এ ধরনের অপরাধে কেউ অভিযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এক থেকে চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

Advertisement

আরো পড়ুন: মুসলিম হওয়ার কারণে ব্রিটেনে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেয়ার অভিযোগ

জানা গেছে, বিরোধী দলের একটি টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে এরদোগানকে উদ্দেশ করে খুব প্রচলিত একটি প্রবাদ বলেন সাদিফ কাবাস। টিভি চ্যানেলের ওই লাইভ শোতে সাংবাদিক সাদিফ কাবাস বলেন, বিখ্যাত একটি প্রবাদ রয়েছে—‘রাজমুকুটধারীরা জ্ঞানী হন’। তবে এটি সত্য নয়। টেলি ওয়ান চ্যানেলকে সাংবাদিক কাবাস আরো বলেন, রাজপ্রাসাদে ষাঁড় ঢুকলে রাজা হতে পারে না বরং প্রাসাদটাই গোয়ালঘর হয়ে যায়।

টেলি ওয়ান টিভি চ্যানেলকে দেওয়া ওই বক্তব্য সাদিফ কাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারেও পোস্ট করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাদিফের এক থেকে চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রধান মুখপাত্র ফাহরেতিন আলতুন টুইটারে বলেন, তথাকথিত এক সাংবাদিক টেলিভিশন চ্যানেলে নির্লজ্জভাবে আমাদের প্রেসিডেন্টকে অসম্মান করেছেন। বিদ্বেষ ছড়ানো ছাড়া এই সাংবাদিকের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই।

আলতুন আরো বলেন, আমি অভিযুক্ত ব্যক্তির ওদ্ধত্য ও অনৈতিকতার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের মন্তব্য শুধু অনৈতিকই নয়, এটি দায়িত্বহীনতার পরিচয়ও।

আরো পড়ুন: বরফে ঢেকে গেছে সৌদির মরুভূমি

এদিকে টেলি ওয়ান চ্যানেলের সম্পাদক মার্ডান ইয়ানারডাগ সাংবাদিক সাদিফ কাবাসকে আটক করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি প্রবাদ বলার কারণে রাত দুইটার সময় তাকে আটক করা মেনে নেয়া যায় না। এটি সাংবাদিক, গণমাধ্যম ও সমাজের জন্য হুমকি।

জানা গেছে, তুরস্কের সাংবাদিকদের ইউনিয়ন কাবাসের গ্রেফতারের ঘটনাকে ‘বাক-স্বাধীনতার ওপরে মারাত্মক আঘাত’ বলে দাবি করেছে। অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থাগুলো অবশ্য সাংবাদিকদের আটকের মাধ্যমে তুরস্ক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করছে বলে বরাবরই অভিযোগ করে আসছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের তালিকা অনুযায়ী, স্বাধীন গণমাধ্যম সূচকে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান ১৫৩তম।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!