ঠিক এক বছর আগে সেনা বিদ্রোহে ক্ষমতা হারিয়েছিল মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার। ক্ষমতা দখল করেছিল সেনা জান্টা। এরপর বহু ঘটনা ঘটে গিয়েছে মিয়ানমারে। বহু মানুষের প্রাণ গেছে। মিয়ানমারের প্রধান নেতা অং সান সুচিকে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশের প্রশাসন।
অভ্যুত্থানের পরেই মিয়ানমারের সেনাশাসকদের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ। এক বছর পর ফের নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তার মধ্যে মিয়ানমারের অ্যাটর্নি জেনারেল থিডা উ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টুন টুন ও এবং দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইউ টিন ও রয়েছেন।
.png)
আরো পড়ুন: ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে হুমকি বাইডেনের
এক বিবৃতিতে কানাডার সরকার জানিয়েছে, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর গত বছরজুড়ে মিয়ানমারে মানবিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যত কোনো কাজই করেনি জান্তা সরকার। আর তাই ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কানাডাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি এবং সংস্থাগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সবরকম সম্পদ বাজেয়াপ্ত থাকবে।
এদিকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরে নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে সুচির বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি জেলের শাস্তি ভোগ করছেন। এবার তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি, দেশের তথ্য বাইরে পাচার করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। ফের তার বিচার শুরু হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ৭৫ বছরের সুচির বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তার ১০০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিচারের নামে প্রহসন চলছে মিয়ানমারে। ফলে কয়েকমাসের মধ্যেই মিয়ানমার প্রশাসন সুচির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণ করে দেবে।
গত একবছরে প্রবল সংকটের মধ্যে কাটিয়েছেন মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের গণতন্ত্রপন্থিরা লাগাতার রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন। এখনো পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের অত্যাচারে। এখনো আন্দোলন চলছে। তারই মধ্যে সুচির বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা হয়েছে।