এক প্রতিবেদনে দ্য ক্ল্যাক্সন বলছে, ওই বছরের ১৫-১৬ জুন গালওয়ান নদীর দ্রুত বয়ে যাওয়া স্রোত পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় ৩৮ সেনা নিহত হয়েছেন। অন্ধকার এবং প্রায় শূন্য তাপমাত্রায় চীনা এই সেনারা নদী পার হয়ে যাওয়ার সময় তলিয়ে যান।
অস্ট্রেলীয় এই দৈনিক বলছে, চীন গালওয়ান উপত্যকার সংঘাতে চার সেনা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে। সেই চার সেনার একজন ছিলেন জুনিয়র সার্জেন্ট ওয়াং ঝুওরান। গালওয়ান নদীতে তলিয়ে যাওয়া সেনাদের একজন তিনি।
.png)
জানা গেছে, দেশ দুটিতে ২০২০ সালের ১৫ জুন সংঘর্ষ শুরু হয় একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ ঘিরে। পালটা সীমান্তে ‘বাফার জোন’ নির্মাণের কাজ শুর করে চীন। ৬ জুন ৮০ জন পিএলএ সেনা ভারতের নির্মিত সেতুটি ভেঙে ফেলতে আসে। যদিও সেই সময় আলোচনার মাধ্যমে একরকম সমাধান হয়। ঠিক হয় ‘বাফার জোন’ অতিক্রম করে চীনা সেনা ফিরে যাবে। তবে সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি চীন।
আরো পড়ুন: সিরিয়ায় মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নারী-শিশুসহ ১২ বেসামরিক নিহত
উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ১৫ জুন বিতর্কিত এলাকা পরিদর্শন করতে যান কর্নেল সন্তোষবাবু ও তার দল। যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল কর্নেল কি ফ্যাবাওয়ের নেতৃত্বে চীনা সেনা।
‘দ্য ক্ল্যাক্সন’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আচমকাই ফ্যাবাওয়ে ভারতীয় সেনাকে আক্রমণের নির্দেশ দেয় নিজের ফৌজকে। সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাবাওয়েকে আটক করে ভারতীয় সেনা। কর্নেলকে বাঁচাতে পিএলএ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার চেন হংজুন এবং সৈনিক চেন জিয়াংরং ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘাতে জড়ান।
এই সময়েই স্টিলের পাইপ, কাঁটা লাগানো লাঠি দিয়ে ভারতীয় জওয়ানদের উপরে হামলা চালায় চীনা সেনা। যদিও এই সংঘর্ষে তিন জন চীনা সেনারও মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছে ‘দ্য ক্ল্যাক্সন’ রিপোর্ট।
এই সময়েই ভারতীয় সেনার পালটা আক্রমণের মুখে পিছু হটে চীনা সেনা। এমনকি তারা পালাতে বাধ্য হয়। পালানোর সময় চীনা সেনা শীতবস্ত্রটুকু পরারও সময় পায়নি। যদিও নিজদের এলাকায় ফিরতে অন্ধকার রাতে বরফ শীতল জলের নদীতে ঝাপিয়ে পড়তে বাধ্য হয় তারা। সেই সময়েই গালওয়ান নদীতে ডুবে মৃত্যু হয় বহু চীনা সেনার। অনেকেরই মৃত্যু হয় তীব্র ঠান্ডায়। সব মিলিয়ে ৪২ জন চীনা সেনার মৃত্যু হয়।
সূত্র: এনডিটিভি