গোপন কক্ষ থেকে দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা শিশু উদ্ধার!
২০১৯ সালে নিখোঁজ হওয়া এক শিশুকে একটি বাড়ির সিঁড়ির নিচে গোপন কক্ষে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পেইসলি শলটেস নামের ওই মেয়েশিশুর বয়স এখন ছয় বছর। তল্লাশি অভিযান শেষে সুগেটিস শহরের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি সুস্থ আছে। গোপন ওই কক্ষ থেকে উদ্ধার করার পর পেইসলি শলটেসকে তার বড় বোন ও বৈধ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পেইসলির মা-বাবা কিন্তু বৈধ অভিভাবক নন। তাদের বিরুদ্ধে তার হেফাজতে হস্তক্ষেপ এবং একটি শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
.png)
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে নিউইয়র্কের তিয়োগা কাউন্টি থেকে পেইসলি শলটেস নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সময় তার বয়স ছিল চার বছর।
আরো পড়ুন>> উড়তে উড়তেই আচমকা মাটিতে পড়ে কয়েকশ পাখির মৃত্যু!
পেইসলি যখন নিখোঁজ হয়, তখন কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিল, শিশুটির মা কিমবারলি কুপার (৩৩) ও বাবা কিরক শলটেস জুনিয়র (৩২) তাকে অপহরণ করেছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, পেইসলিকে আলস্টার কাউন্টির সুগেটিস শহরে একটি গোপন স্থানে রাখা হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়ার পরই পুলিশ বাড়িটিতে তল্লাশি অভিযান চালানোর জন্য একটি পরোয়ানা পায়। বাড়িটিতে এর আগেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, পেইসলির দাদা কিরক শলটেস সিনিয়র (৫৭) ওই বাড়ির মালিক।
আরো পড়ুন>> ডাক্তার পরিচয়ে ১৪ বিয়ে, অতঃপর...
যখন ওই বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়, তখন সেখানেই উপস্থিত ছিলেন তিনি। তবে কিরক শলটেস সিনিয়র তখন পুলিশকে বলেছিলেন, পেইসলির অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি।
কিন্তু তল্লাশি অভিযান শুরুর এক ঘণ্টার একটু বেশি সময় পর বাড়ির নিচ তলায় যাওয়ার জন্য একটি সিঁড়ি দেখতে পান একজন গোয়েন্দা। তিনি দেখেন, সিঁড়িটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। ভুতুড়ে সিঁড়িটি দেখে গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়। একাধিক বোর্ড সরিয়ে সেখানে পেইসলি ও তার মা কুপারকে খুঁজে পায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এমন এক জায়গায় লুকিয়ে ছিলেন, যাকে ‘সংকীর্ণ, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে জায়গা হিসেবে’ বর্ণনা করেছে পুলিশ।
আরো পড়ুন>> খালাস পেলেন পরিবারের ‘সম্মান রক্ষায়’ মডেল বোনকে হত্যা করা সেই ভাই
পেইসলিকে ওই গোপন ঘর থেকে উদ্ধার করার পরপরই প্যারামেডিকদের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, শিশুটি সুস্থ আছে।
বিবিসি জানিয়েছে, পেইসলি নিখোঁজ হওয়ার আগে তার জন্মদাতা মা-বাবা পেইসলি ও তার বড় বোনকে নিজেদের হেফাজতে রাখা নিয়ে এক আইনি লড়াইয়ে হেরেছিলেন।
পুলিশের ধারণা, এটাই ছিল পেইসলিকে অপহরণের উদ্দেশ্য। অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ে হেরেই তারা পেইসলিকে অপহরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
সুগেটিস শহরের পুলিশপ্রধান জোসেফ সিনাগরা অনলাইন নিউজ চ্যানেল ডব্লিউএনওয়াইটিকে বলেন, ‘আমাদের ধারণা, কেউ হয়তো ওই মা-বাবাকে জানান যে তাদের বড় সন্তানকে তাদের বৈধ অভিভাবক ও কাউন্টি কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে গেছেন। এটা শোনার পর তারা ছোট মেয়ে পেইসলিকে নিয়ে পালিয়ে যান।’
আরো পড়ুন>> মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের দরজা খোলার চেষ্টা যাত্রীর!
পেইসলির মা কুপার, বাবা কিরক শলটেস জুনিয়র ও কিরক শলটেস সিনিয়রকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে পেইসলিকে গুম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিচার চলছে। তবে পেইসলির বাবা কিরক শলটেস জুনিয়র ও তার দাদা কিরক শলটেস জামিন পেয়েছেন।
কিন্তু পেইসলির মায়ের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। এ জন্য তিনি জামিন পাননি। এখন উলস্টার কাউন্টির একটি কারাগারে রয়েছেন তিনি।
পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পেইসলির নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ নিখোঁজের ঘটনার পর তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে নিখোঁজদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পারিবারিক অপহরণের ঘটনায় শিশুরা দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকে এবং নিখোঁজ থাকার এ সময় গড়ে ১০ মাস।