রুশ সীমান্তবর্তী পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ শহরটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। খারকিভের ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
শহরে রুশ সেনাদের প্রবেশের তথ্য নিশ্চিত করে খারকিভ আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ বলেছেন, রুশ বাহিনীর হালকা সামরিক যানগুলো শহরে প্রবেশ করেছে।
.png)
এদিকে ওলেগ সিনেগুবভের স্বীকারের আগেই অনলাইনে বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বের এই শহরের রাস্তায় রাস্তায় রুশ সামরিক যানগুলোকে চলতে দেখা যায়।
এছাড়া রুশ সেনারা শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে গেছে বলেও জানিয়েছেন ওলেগ সিনেগুবভ। এই পরিস্থিতিতে শহরের বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থানের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আরো পড়ুন: রাস্তার দিকনির্দেশনা মুছে রুশ সেনাদের ফাঁদে ফেলছে ইউক্রেন
তার ভাষায়, বাড়ির বাইরে বের হবেন না। শত্রুদের (শহর থেকে) সরিয়ে দিতে কাজ করছে ইউক্রেনের সেনারা। বেসামরিক মানুষকে রাস্তায় না বেরোনোর জন্য বলা হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসনের হুমকির মুখে মস্কোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন খারকিভ শহরের হাজারও বাসিন্দা। সেসময় খারকিভ ইজ ইউক্রেন লেখা ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন শহরটির সাধারণ মানুষ।
এছাড়া ইউক্রেনে হামলা বন্ধ করো লেখা সম্বলিত ব্যানারও ছিল বিক্ষোভকারীদের হাতে। রুশ সীমান্তবর্তী পূর্ব ইউক্রেনের এই শহরটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং রুশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৪২ কিলোমিটার (২৬ মাইল) দূরে অবস্থিত।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পূর্বে এবং রাশিয়ান সীমান্তের ঠিক পাশেই খারকিভ শহরটি অবস্থিত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি মূলত একটি শিল্পাঞ্চল ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র। এখানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। অবশ্য বাসিন্দাদের মধ্যে অনেক রুশভাষীও আছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা করছে রুশ সেনারা। বর্তমানে তাদের সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাদের তুমুল সংঘর্ষ চলছে। অবশ্য এর আগে কিয়েভের উত্তরাঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের প্রতিরোধের প্রশংসা করেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। তবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীকে ঠেকানো অসম্ভব বলে মত বিশ্লেষকদের। যদি পশ্চিমা মিত্রদের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তা আসে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।