বুধবার (২০ এপ্রিল) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাংবাদিকদের পেসকভ বলেন, ‘বল তাদের কোর্টে। আমরা উত্তরের অপেক্ষায়। তবে আলোচনার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার আগ্রহ তাদের কম।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার ও ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন করার অভিযোগ তুলেছেন পেসকভ। ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ আরও বলেন, আলোচনা নিয়ে ইউক্রেনের দিক থেকে ধারাবাহিকতার অভাব আলোচনার কার্যকর করতে খারাপ পরিণতি ডেকে আনছে।
.png)
এর আগে গতকাল পেসকভের মতোই একই কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তিনি বলেন, ইউক্রেনের আলোচনাকারীদের ওপর আস্থা হারিয়েছে মস্কো। তিনি এ সময় ‘বিশ্বাস করো কিন্তু যাচাই করে দেখ’এ রকম একটি রুশ প্রবাদের প্রসঙ্গ টানেন। জাখারোভা ওই প্রবাদ ছোট করে শুধু যাচাই করো অংশটা রেখে এর কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এসব মানুষের ওপর আমাদের কোনো আস্থাই নেই। তাই এটা শুধু যাচাইয়ের বিষয়।’
আরো পড়ুন>> শিশু ধর্ষণকারীদের রাসায়নিক খোজাকরণের পরিকল্পনা পেরুর
জাখারোভা আরও বলেন, ইউক্রেনের সরকার স্বাধীনভাবে কাজ করছে না বরং বাইরে থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আলোচনায় কিয়েভের এমন অবস্থানকে তিনি রসিকতা অভিহিত করে বলেন, ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে ঠিক থাকতে পারছে না। ইউক্রেনের আলোচনায় অংশ নেয়াকে মনযোগ ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল ছাড়া কিছু নয় বলে দাবি করেন জাখারোভা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। অভিযান শুরুর ৪ দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলারুশের গোমেল অঞ্চলে প্রথমবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন। এরপর আরও কয়েক দফায় অনলাইনে ও মুখোমুখি দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। ২৯ মার্চ শেষবার বৈঠক হয়েছে।
১২ এপ্রিল রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রধান দাবিগুলো হলো ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখণ্ড এবং ডনবাসের দুই প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি। কিন্তু ইউক্রেনে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে রাশিয়া। এ ছাড়া পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের দুই স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক রিপাবলিককে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করার কয়েক দিন পরই ইউক্রেনে এ হামলা শুরু করে রাশিয়া।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস