দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে বহিরাগত বস্তু ছোঁয়ার পর ছড়িয়েছে করোনা: পিয়ংইয়ং
প্রতিবেশি দক্ষিণ কোরিয়াসংলগ্ন সীমান্ত থেকে উড়ে আসা ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ায় করোনা মহামারি ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পিয়ংইয়ং।
শুক্রবার (১ জুলাই) দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণ জানতে করা একটি তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পিয়ংইয়ংয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ওই বস্তু উড়ে এসেছে। উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা সেটি দেখতে পেয়েছেন।
.png)
বছরের পর বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার মানবাধিকার কর্মীরা ব্যালুনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা দিয়ে উত্তর কোরিয়ায় লিফলেট ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়ে আসছে। তবে এই উপায়ে উত্তর কোরিয়ায় করোনা প্রবেশ করার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ বলছে, একটি সরকারি তদন্তে জানা গেছে সংক্রমণের শুরুতে যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের দু’জন দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত এলাকায় ওই বিদেশি বস্তুর সংস্পর্শে এসেছিলেন।
আরো পড়ুন>> বিয়ের পাত্রী চেয়ে শহরজুড়ে পোস্টার লাগালেন প্রকৌশলী
চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে একজন ১৮ বছর বয়সী সেনা ও পাঁচ বছরের এক শিশুর করোনা শনাক্ত হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, তারা কাংওন প্রদেশের ইফো-রি পাহাড়ে ওই বস্তুর খোঁজ পেয়েছিল।
কেসিএনএ-এ জানায়, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইফো–রি এলাকা থেকে রাজধানী শহরের দিকে আসা কয়েক ব্যক্তির জ্বর ছিল। তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ক্রমাগত জ্বরে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।
এদিকে করোনা মহামারি ঠেকাতে শুরু থেকেই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করে আসছিল উত্তর কোরিয়া। তবে গত মে মাসে করোনার প্রকোপ শুরু হলে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
২০২০ সালের জুলাইয়ে আন্তকোরীয় সীমান্তে অবস্থিত কায়েসং শহরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন জরুরি অবস্থা ও তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেন। ২০১৭ সালে দেশ ছেড়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যাওয়া এক ব্যক্তি দেশে ফেরার পর তার করোনা উপসর্গ দেখা দিলে এ ঘোষণা দেন তিনি।
আরো পড়ুন>> ২০ ফুট উঁচু গাছে চড়ে হনুমান শিকার করল চিতাবাঘ!
উত্তর কোরিয়া বলছে, দেশটির করোনা ঢেউ নিম্নমুখী। তবে বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ, সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি কম করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
শুক্রবার উত্তর কোরিয়া বলেছে, দেশটিতে নতুন করে আরও ৪ হাজার ৫৭০ জনের জ্বরের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
গত এপ্রিলের শেষ থেকে এ পর্যন্ত জ্বরের উপসর্গ থাকার মানুষের সংখ্যা ৪৭ লাখ ৪০ হাজারে দাঁড়াল। পিয়ংইয়ং প্রতিদিন জ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা উপস্থাপন করে থাকে। তবে করোনা পরীক্ষার কিটের ঘাটতি থাকায় এসব রোগীকে সুনির্দিষ্ট করে কোভিডে আক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করে না তারা।
সূত্র: বিবিসি