পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের নদীগুলো
ইউরোপ জুড়ে চলছে প্রবল তাপদাহ। যার প্রভাব পড়েছে মহাদেশটির নদীগুলোর ওপরও। সেখানকার অনেক নদীই অতিরিক্ত তাপের কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে।
কয়েকশ বছর ধরে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ রাইন নদী। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জাহাজ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়তে চলেছে এর একটি প্রধান পয়েন্ট। মধ্য ইউরোপের সঙ্গে কৃষ্ণসাগরের সংযোগ ঘটানো দানিউব নদীর পানিও দ্রুত কমে যাচ্ছে। এর ফলে ইউরোপের জ্বালানি-শস্যসহ অন্যান্য বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
ইউরোপের অভ্যন্তরীণ জলপথ নেটওয়ার্কের প্রাণ রাইন নদী। প্রায় ৮০০ মাইল দীর্ঘ নদীটি সুইজারল্যান্ডের পার্বত্য এলাকায় উৎপত্তি হয়ে অন্তত ইউরোপের ছয়টি দেশের ভেতর দিয়ে উত্তর সাগরে গিয়ে পড়েছে। খালের মাধ্যমে এর সঙ্গে সংযোগ ঘটেছে দানিউব নদীরও। জার্মানির পরিবহন ব্যবস্থার জন্য রাইন নদী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পানির স্তর কমে যাওয়ায় বন্ধ হওয়ার পথে জাহাজ চলাচল।
.png)
আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তার ওপর রাশিয়া থেকে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি। এর মধ্যে নদীপথ বন্ধ হয়ে গেলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদকরা যে ভয়াবহ সংকটে পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরো পড়ুন>> রাস্তায় প্রকাশ্যে নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর!
শুধু জার্মানি নয়, গোটা ইউরোপেই ছড়িয়ে পড়েছে রাইন-সম্পর্কিত সমস্যা। সুইজারল্যান্ডে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ২০১৭ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঘাটতি মেটাতে জ্বালানির মজুত ব্যবহার করতে হচ্ছে দেশটিকে। একই কারণে নেদারল্যান্ডসে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এতে বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের নদী ও খালগুলো সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য বছরে অন্তত এক টন মালামাল পরিবহন করে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে প্রায় আট হাজার কোটি মার্কিন ডলার অবদান রাখে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে এমনিতেই মারাত্মক জ্বালানি ঘাটতিতে ভুগছে ইউরোপ। এরমধ্যে নদীগুলোর নাব্যতা সংকট তাদের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে এনেছে।
ইতিহাসের ভয়াবহতম খরার কারণে ফ্রান্সের বেশিরভাগ অংশে পানি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। দেশটির ১০০টির বেশি পৌরসভায় এখন ট্রাকের সাহায্যে খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। নদীর পানির উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় তা দিয়ে ফ্রান্সের পারমাণবিক চুল্লিগুলো শীতল করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে চলতি সপ্তাহে পাঁচটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নদীতে গরম পানি ছাড়ার অনুমতি দিয়েছেন ফরাসি নীতি নির্ধারকরা। যা তাদের পরিবেশগত মানদণ্ডের বিরোধী।
আরো পড়ুন>> পুতিনের ওপর আস্থা বেড়েছে রাশিয়ানদের
ইতালির মোট কৃষি উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশই হয় পো নদীর উপত্যকায়। তবে পানির স্তর ৭০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে ভুট্টা, সূর্যমুখীসহ সব ধরনের শস্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় দানিউব নদীতে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। চ্যানেলগুলো উন্মুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য জাহাজ। রোমানিয়ার নদীপথের বৃহত্তম জাহাজ কোম্পানি ট্রান্সপোর্ট ট্রেড সার্ভিসেসের অন্যতম পরিচালক গ্যাব্রিয়েল তেচেরা বলেন, গত ২০ বছরের মধ্যে এটিই আমাদের সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি।
সূত্র: ব্লুমবার্গ