নিলামে বিক্রি হলো সেই বিরল গোলাপি হীরা
অবশেষে নিলামে বিক্রি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিরল সেই গোলাপি হীরা। প্রায় ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে হীরাখণ্ডটি চীনের হংকংয়ে বিক্রি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৭৮২ কোটি তিন লাখ সাত হাজার ৪১০ টাকা। অন্যান্য হীরা বা রত্নপাথরের চেয়ে এ হীরার দাম প্রত্যেক ক্যারেটে রেকর্ড পরিমাণ নিলামে বিক্রি হয়।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সৎবাইয়ের বরাতে ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১.১৫ ক্যারেট ‘উইলিয়ামসন গোলাপি তারা’র হীরাটি ৪৫৩ হংকং ডলারের বিক্রি হয়। আর সেটি মার্কিন ডলারে দাঁড়ায় ৫৭.৭ মিলিয়ন। এটি জুয়েলারি নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাম।
বিরল গোলাপি হীরাখণ্ডটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বোকা রতনের একজন বাসিন্দা কিনেছেন। তবে তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করার অনুমতি দেননি। এ হীরাখণ্ডটি ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিক্রির ধারণা করা হয়েছিল। তবে সেটি দ্বিগুণের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছে।
.png)
নিলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হলো ‘উইলিয়ামসন গোলাপি তারা’ হীরাটি। গোলাপি হীরা বিশ্বের সবচেয়ে বিরল রত্ন এবং বিশ্ববাজারে এটির চাহিদা আকাশচুম্বী।
এর আগে, ২০১৭ সালে হংকংয়ে নিলামের মাধ্যমে ৭১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ‘সিএফটি গোলাপি তারা’ বিক্রি হয়। সেটি বিশ্বের সবচেয়ে রেকর্ড করা মূল্যবান হীরা ছিল।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সৎবাইয়ের জুয়েলারি এবং ওয়াচেসের চেয়ারম্যান ওয়েনহাউ ইউ বলেন, শুক্রবার বিক্রি হওয়া হীরাটি শুধু এশিয়ার প্রাণবন্ত এবং উন্নতমানের হীরাই নয়, এটি গোলাপি হীরার বিশাল বিরলতা জানান দেয়।
আগের দুটি হীরার নামানুসারে ‘দ্য উইলিয়ামসন গোলাপী তারা’ নামকরণ করা হয়। ‘সিএফপি গোলাপি তারা’ হীরাটি ছিল ২৩.৬ ক্যারেট। সেটি ব্রিটেনের সাবেক রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বিয়েতে উপহার দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের জুয়েলারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ৭৭ ডায়মন্ডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালনক টোবিয়াস কোরমাইন্ড বলেন, হীরাটির ‘আশ্চর্যজনক’ বিক্রি প্রমাণ করে যে, উচ্চমানের হীরা বিধ্বস্ত অর্থনীতির মধ্যেও মূল্যবান।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বমানের হীরাগুলোর মতো ধাতু সম্পদ খারাপ সময়ের মধ্যেও ভালো চাহিদা রয়েছে।