ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

নারী নেশায় বুঁদ ছিলেন ‘নারীবাদী’ আফতাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ১৫ নভেম্বর ২০২২
নারী নেশায় বুঁদ ছিলেন ‘নারীবাদী’ আফতাব
ছবি: সংগৃহীত

লিভ ইন- এ থাকা প্রেমিক আফতাব আমিন পুনওয়ালাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন প্রেমিকা শ্রদ্ধা ওয়ালকার। তবে বিয়ে নয়, বিয়ে ছাড়াই শারীরিক সম্পর্ক করতে পছন্দ করতেন প্রেমিক। এ নিয়ে দুজনের দ্বন্দ্ব চরমে উঠলে শ্বাসরোধে শ্রদ্ধাকে হত্যা করা হয়। লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখেন প্রেমিক। এত বড় ঘটনার পরও নারী নেশা কাটেনি তার। এরপর বাসায় নারীদের এনে শারীরিক সম্পর্ক করা হতো। অথচ আফতাব সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে ‘নারীবাদী’ হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

আফতাবের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে নারীদের উপর অ্যাসিড হামলার বিরোধিতা করেছেন আফতাব। নারীর স্বাধীনতার পক্ষে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সমর্থনে একবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের মূল ছবিতে রামধনু রঙের প্রলেপ লাগান আফতাব।

পুলিশ বলছে, প্রেমিকা শ্রদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহকে ৩৫ টুকরো করে ফ্রিজে রাখেন প্রেমিক আফতাব। এরপর নারীদের বাসায় এনে আফতাব মেতে উঠতেন উদ্দাম যৌনতায়। নারীদের সঙ্গে একই বাড়িতে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। নারী নেশায় বুঁদ ছিলেন এ কিলার। 

Advertisement

যেভাবে নারীদের জোগাড় করতেন আফতাব

একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে নানা নারীর সঙ্গে আফতাবের পরিচয় হতো। তাদের সঙ্গে গল্প করে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতেন। তারপর সেসব নারীদের ডাকতেন বাড়িতে। একইভাবে অ্যাপের মাধ্যমে শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন আফতাব। 

দিল্লি পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাসে নানা নারীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ড হওয়া বাড়িতেই শারীরিক সম্পর্ক করেছিলেন আফতাব। শুধু নারীরাই নন, আফতাবের বাড়িতে আসতেন বন্ধু-বান্ধবও।

দিল্লি পুলিশের দাবি, শ্রদ্ধাকে চলতি বছরের মে মাসে হত্যা করা হয়। মুম্বাই থেকে দিল্লিতে চলে আসার মাস খানের পরই প্রেমিকা তথা লিভ ইন সঙ্গীকে মেরে ফেলেন আফতাব।

কেন শ্রদ্ধাকে খুন? পুলিশের প্রশ্নের মুখে আফতাব জানান, শ্রদ্ধা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি লিভ ইন সম্পর্কেই থাকতে চাইতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। তার জেরেই শ্রদ্ধাকে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ জানতে পেরেছে, ডেটিং অ্যাপে মেয়েদের সঙ্গে আলাপ জমানো, সম্পর্ক তৈরি করার স্বভাব আফতাবের আগে থেকে ছিল। তা জানতে পেরেছিলেন শ্রদ্ধাও। সেই নিয়েও দু’জনের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল।

পুলিশি জেরার মুখে আফতাব পাল্টা দাবি করেছেন, একই ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতেন শ্রদ্ধা। তিনিও ঐ অ্যাপের মাধ্যমে অন্য ছেলেদের সঙ্গে মিশতেন। শ্রদ্ধাকে হত্যার করার পর তিনি যে অন্য নারীদের ডেকে ঐ একই বাড়িতে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন, তা পুলিশের কাছে নিজেই স্বীকার করেছেন আফতাব।

আফতাবকে ভালোবেসে তার সঙ্গে ঘর ছাড়েন শ্রদ্ধা। এপ্রিল মাসে মুম্বাই ছেড়ে দিল্লিতে আসেন তারা। সেখানে এক মাস কাটতে না কাটতেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। আফতাবের মোবাইল পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোবাইল থেকে আরো অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
ট্যাগ: নারী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!