ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ফ্রিজে প্রেমিকার লাশ রেখে নারীদের সঙ্গে যৌনতায় মাততেন আফতাব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৪৪, ১৫ নভেম্বর ২০২২
ফ্রিজে প্রেমিকার লাশ রেখে নারীদের সঙ্গে যৌনতায় মাততেন আফতাব!
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দিল্লিতে প্রেমিকা শ্রদ্ধা ওয়ালকারকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহকে ৩৫ টুকরো করে ফ্রিজে রেখেছিলেন প্রেমিক আফতাব আমিন পুনাওয়ালা। এরপর আফতাব নারীদের বাসায় এনে মেতে উঠতেন উদ্দাম যৌনতায়। কিন্তু কেউই টের পেতেন না যে এ বাসায় নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।

দিল্লি পুলিশ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের  দাবি, প্রেমিকা শ্রদ্ধার টুকরো টুকরো দেহাংশ ফ্রিজে রেখে আফতাব অন্য মেয়েদের সঙ্গে একই বাড়িতে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। শ্রদ্ধাকে হত্যার পর একাধিক নারীকে বাড়িতে আনেন তিনি।

একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে নানা নারীর সঙ্গে আফতাবের পরিচয় হতো। তাদের সঙ্গে গল্প করে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতেন। তারপর সেসব নারীদের ডাকতেন বাড়িতে। একইভাবে অ্যাপের মাধ্যমে শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন আফতাব। 

Advertisement

দিল্লি পুলিশ জানায়, নারীদের বাড়িতে ডেকে এনে উদ্দাম যৌনতায় লিপ্ত হতেন আফতাব। গত কয়েক মাসে নানা নারীর সঙ্গে ঐ বাড়িতেই তার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

পুলিশ জানায়, যে নারীরা আফতাবের সঙ্গে সময় কাটাতে তার বাড়িতে আসতেন, শ্রদ্ধার খুন সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। বাড়িতে নতুন ফ্রিজ কিনেছিলেন আফতাব। ঘরের এক কোণে সেই ফ্রিজ রাখা থাকতো।

ফ্রিজের ভেতর একাধিক প্যাকেটে মুড়ে আফতাব রেখে দেন প্রেমিকার দেহের নানা টুকরো। শ্রদ্ধার কাটা মাথাও ছিল ঐ ফ্রিজে। সুকৌশলে সেই ফ্রিজের কাছ থেকে তিনি সঙ্গীদের দূরে রাখতেন।

শুধু নারীরাই নন, আফতাবের বাড়িতে আসতেন বন্ধু-বান্ধবও। তারা সবাই দেখতে পেতেন, ঘরে ঘরে অনেক ধূপ জ্বলছে। চড়া সুগন্ধি ছড়িয়ে রাখা হয়েছে চারদিকে। তবে কেউ কখনো স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বাড়িতে শ্রদ্ধার মরদেহ লুকিয়ে রেখেছেন আফতাব।

দিল্লি পুলিশের দাবি, শ্রদ্ধাকে চলতি বছরের মে মাসে খুন করা হয়। মুম্বাই থেকে দিল্লিতে চলে আসার মাস খানের পরই প্রেমিকা তথা লিভ ইন সঙ্গীকে মেরে ফেলেন আফতাব।

কেন শ্রদ্ধাকে খুন? পুলিশের প্রশ্নের মুখে আফতাব জানান, শ্রদ্ধা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি  লিভ ইন সম্পর্কেই থাকতে চাইতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। তার জেরেই শ্রদ্ধাকে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ জানতে পেরেছে, ডেটিং অ্যাপে মেয়েদের সঙ্গে আলাপ জমানো, সম্পর্ক তৈরি করার স্বভাব আফতাবের আগে থেকে ছিল। তা জানতে পেরেছিলেন শ্রদ্ধাও। সেই নিয়েও দু’জনের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল।

পুলিশি জেরার মুখে আফতাব পাল্টা দাবি করেছেন, একই ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতেন শ্রদ্ধা। তিনিও ঐ অ্যাপের মাধ্যমে অন্য ছেলেদের সঙ্গে মিশতেন। শ্রদ্ধাকে হত্যার করার পর তিনি যে অন্য মেয়েদের ডেকে ঐ একই বাড়িতে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন, তা পুলিশের কাছে নিজেই স্বীকার করেছেন আফতাব।

শ্রদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিলেন আফতাব। তারপর প্রেমিকার দেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে টুকরো টুকরো কাটেন তিনি। মোট ৩৫টি টুকরো করা হয় শ্রদ্ধার দেহের।

হত্যার পর ৩০০ লিটারের একটি নতুন ফ্রিজ কেনেন আফতাব। শ্রদ্ধার দেহের টুকরোগুলোকে প্যাকেটে ভালো করে মুড়ে ঢুকিয়ে দেন ফ্রিজে। পচন আটকাতেই ফ্রিজ কেনেন তিনি।

প্রতি দিন রাত ২টা হলেই ফ্রিজ খুলতেন আফতাব। প্রেমিকার দেহের টুকরো একটি একটি করে তুলে নিতেন। তারপর কাছের জঙ্গলে গিয়ে প্রতি দিন একটি করে টুকরোগুলো ছড়িয়ে দিয়ে আসতেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শ্রদ্ধাকে খুনের পর গুগ্‌লে আফতাব সার্চ করেছিলেন, কীভাবে রক্ত পরিষ্কার করতে হয়। অ্যানাটমি বা শরীরতত্ত্ববিদ্যা নিয়েও ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করেন তিনি। মানুষের দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা নিয়ে তার গুগ্‌লে সার্চ রয়েছে।

পুলিশের কাছে আফতাব জানায়, আমেরিকার জনপ্রিয় অপরাধমূলক ওয়েবসিরিজ ‘ডেক্সটার’ দেখে শ্রদ্ধাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন । ১৮ মে খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেন।

শনিবার আফতাবকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। আপাতত হাজতে দিন কাটছে তার। তাকে সর্বক্ষণ সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয়েছে। হাজতে তার কক্ষের বাইরে সর্বক্ষণ থাকছেন দু’জন পুলিশ সদস্য। 

মনোবিজ্ঞানীদের একাংশ দাবি করছেন, আফতাব আদতে সাইকোপ্যাথ। তিনি বিশেষ একপ্রকার মানসিক বিকৃতির শিকার। হয়তো শ্রদ্ধার আগেও আরো হত্যার নজির রয়েছে তার। স্বাভাবিক মানসিক পরিস্থিতিতে এমন কাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

আফতাবকে ভালোবেসে তার সঙ্গে ঘর ছাড়েন শ্রদ্ধা। এপ্রিল মাসে মুম্বাই ছেড়ে দিল্লিতে আসেন তারা। সেখানে এক মাস কাটতে না কাটতেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। আফতাবের মোবাইল পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোবাইল থেকে আরো অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!