পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে শ্রদ্ধার ঘাতক আফতাব।
পুলিশ সূত্র বলছে, হত্যার ঘটনার ১০ দিন আগে শ্রদ্ধা ও আফতাব ঝগড়া করেন। একপর্যায়ে শ্রদ্ধার গলা চেপে ধরেন আফতাব। এ সময় শ্রদ্ধা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্না শুরু করেন। এজন্য তাকে সেদিন হত্যা করতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যান আফতাব।
.png)
মোবাইলে অন্য নারীর সঙ্গে আফতাবের কথোপকথনে সন্দেহ করেন শ্রদ্ধা। এ সন্দেহ থেকেই দুজনের ঝগড়ার সূত্রপাত।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে, বাম্বল নামক ডেটিং অ্যাপ থেকে পরিচিত হওয়ার পর তিন বছর যাবৎ একসঙ্গে আছে শ্রদ্ধা ও আফতাব।
সূত্র বলছে, হঠাৎ আফতাবের পরিবর্তন দেখে হতাশ হন শ্রদ্ধা এবং তাকে মারধর করা শুরু হয়।
গত ১৮ মে আরেকবার শ্রদ্ধার বুকের ওপর চেপে বসে আফতাব। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরদিন শ্রদ্ধার শরীর ৩৫ টুকরো করে ফেলে ঘাতক প্রেমিক। এরপর ৩০০ কেজির একটি ফ্রিজ কিনে সেটাতে দেহের টুকরো রাখা হয়। তবে শ্রদ্ধার মাথা আলাদা করে রাখে। প্রতিদিন সে শ্রদ্ধার মাথা বের করে দেখতো।
গতকাল মঙ্গলবার শ্রদ্ধার দেহের টুকরোগুলো উদ্ধার করতে দক্ষিণ দিল্লির মেহরাউলি জঙ্গলে আফতাবকে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই এলাকায় ১৮ দিনে শ্রদ্ধার মরদেহ ফেলে এসেছিল আফতাব। অভিযানে গিয়ে ১০টি ব্যাগ পাওয়া গেছে। সেগুলোকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে।
পুলিশ আফতাবের ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে রক্তের দাগ দেখতে পেয়েছে, যেখানে তারা দুজন বসবাস করতেন। সেই ফ্ল্যাটটি বইয়ে পরিপূর্ণ ছিল। সে নিজেকে পাঠক হিসেবে তুলে ধরেছিল।
মুম্বাই ছেড়ে চলতি বছরের মার্চ এবং এপ্রিলে পাহাড় ঘুরে দেখেন আফতাব ও শ্রদ্ধা। তারা দুজনের ৮ মে দিল্লিতে পৌঁছান। তারা চাত্তরপুর ফ্ল্যাটে উঠার আগ পর্যন্ত নানা জায়গায় থেকেছেন। ১৫ মে ফ্ল্যাটে উঠার তিনদিন পর শ্রদ্ধাকে হত্যা করেন আফতাব।