স্থানীয় সরকার জানায়, এখনো ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন সাত হাজার ৬০ জন।
এর আগে, সোমবার রাতে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৬২ জনে। আর আহত হন ৭ শতাধিক মানুষ। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর শহরের কাছে। এটি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পে জাভা দ্বীপের পাশাপাশি রাজধানী জাকার্তার বহুতল ভবনও কেঁপে ওঠে।
.png)
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, চিয়ানজুর থেকে ১০০ কিমি দূরে রাজধানী জাকার্তায়ও ভূকম্পন বেশ জোরেই অনুভূত হয়। এ সময় রাজধানীর উঁচু ভবনগুলো থেকে আতঙ্কে মানুষজন ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসে।
কর্মকর্তারা সাবধান করে বলেন, মূল ভূমিকম্পের পর ছোট একাধিক ভূকম্পন হতে পারে, এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
চিয়ানজুরের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হারমান সুহারমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পরপর কমপক্ষে ৪৬ জন মারা যান। অনেক জায়গা থেকে নতুন নতুন মরদেহ এবং আহত মানুষজন নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দক্ষিণ জাকার্তার বাসিন্দা ভিদি প্রিমাধানিয়া বলেন, শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আমার সহকর্মীরা এবং আমি জরুরি সিঁড়ি ব্যবহার করে নবম তলায় আমাদের অফিস থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
এক বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বলেছে, সিয়াঞ্জুরের বেশ কিছু বাড়িঘর এবং একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছেন।
মেট্রো টিভির ফুটেজে দেখা যায়, সিয়াঞ্জুরের কিছু ভবন একেবারে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। কিছু বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অনেক বাসিন্দা ধ্বংসস্তুপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিকেএমজি) বলেছে, সোমবার জাভায় যে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তাতে সুনামির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ভূমিকম্প পরবর্তী আফটারশক অনুভূত হতে পারে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি।