হাইপারট্রিকোসিস আক্রান্ত রোগীর নাম ললিত পাতিদার। তার বাড়ি ভারতের মধ্যপ্রদেশে। ১৭ বছর বয়সী ললিত ছয় বছর বয়স থেকে রোগটিতে আক্রান্ত। এরইমধ্যে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ললিতের জীবন বিষন্নতা ও কষ্টে ভরা। নিজ সহপাঠীদের দ্বারাই নিগ্রহের স্বীকার হন তিনি। তার বন্ধুরা ভাবতো ললিত হয়তো তাদের কামড়ে দেবে। এমনকি তাকে ‘বানর মানুষ’ বলে ডাকত তারা।
.png)

কীভাবে এ রোগ দেখা দিল এবং কিভাবে সে জীবন পার করছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ললিত বলেন, আমি সাধারণ পরিবারের মানুষ। আমার বাবা কৃষক। কলেজে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবার কৃষিকাজে সহায়তা করি আমি। আমার জীবনের শুরু থেকেই শরীরে এসব অতিরিক্ত চুল ছিল। বাবা-মা বলেছে জন্মের পর নাকি এমনটি ছিল। ফলে ডাক্তার আমার পুরো শরীর কামিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ছয় বছর বয়স হওয়ার আগে আমি তেমন কিছু লক্ষ্য করিনি। এরপর আমি দেখতে থাকি আমার পুরো শরীরে চুলি গজিয়ে ওঠছে।
ললিত জানান, তার এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই এবং এখন এ নিয়েই বেঁচে থাকা’ শিখে গেছেন।
তিনি আরো জানান, যখন তার বয়স আরো একটু কম ছিল তখন ছোট বাচ্চারা তাকে দেখে পাথর ছুঁড়ে মারত। তারা ভাবতো সে হয়ত ভয়ঙ্কর কোনো কিছু।
হাইপারট্রিকোসিস রোগ কি?
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কোনো পুরুষ ও নারীর দেহে অস্বাভাবিক রকমের চুল গজানোকে হাইপারট্রিকোসিস বলা হয়। এটি খুবই বিরল একটি রোগ, যা জন্মের সময়ও দেখা দিতে পারে আবার জীবনের পরবর্তী সময়েও হতে পারে। এ রোগে আক্রান্তরা নিপীড়ন ও নিগ্রহের স্বীকার হন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন তারা। মধ্যযুগ থেকে বিশ্বের মাত্র ৫০ জন মানুষের মধ্যে বিরল এ রোগ দেখা গেছে।