শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতি নিউজ।
এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সংখ্যা ১৩৯ জনে পৌঁছেছে বলে শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
.png)
জাতিসংঘ মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে ‘বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহারের অভিযোগ করেছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার। সেসময় অভ্যুত্থানের পরপরই চালানো অভিযানে অং সান সু চি-সহ বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে সামরিক বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির গণতন্ত্রের সংক্ষিপ্ত যাত্রার অবসান ঘটে।
এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, বুধবার মিয়ানমারের একটি সামরিক আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপক্ষে সাত শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বিরোধীদের দমনে মৃত্যুদণ্ডকে হাতিয়ার হিসাবে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ব্যবহার করছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
আরো পড়ুন>> প্রেমিকাকে ছেড়ে ফিরতে চান স্ত্রীর কাছে! বাধা দেয়ায় যা করলেন যুবক
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা ইয়াঙ্গুন-ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। গত এপ্রিল মাসে একটি ব্যাংকে গোলাগুলির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ইয়াঙ্গুনের দাগোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক সংগঠন বলেছে, প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসাবে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সামরিক জান্তা বাহিনী।
এদিকে, বৃহস্পতিবারও দেশটির চার তরুণ আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। ওই চার আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
স্থানীয় এক পর্যবেক্ষক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধীদের দমনে সামরিক জান্তার হাতে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ২৮০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। বন্দি অবস্থায় এখনও আছেন ১১ হাজার ৬৩৭ জন।