গোয়েন্দা সূত্রের খবর, জম্মুর নারওয়াল শিল্পাঞ্চলে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ঘটে ভয়ংকর জোড়া বিস্ফোরণ। জোরালো বিস্ফোরণে সৌভাগ্যক্রমে কেউ নিহত না হলেও গুরুতর আহত হয়েছেন মোট ৭ জন। বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরেই ছিল রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’।
‘ভারত জোড়ো যাত্রার’ অংশ হিসেবে আগামী সোমবার দলবল নিয়ে জম্মুতে পদযাত্রা করার কথা দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর।
.png)
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণে ছয়জন আহত হলেও কেউ প্রাণ হারায়নি। নগরীর নারওয়াল এলাকায় ‘জম্মুস ট্রান্সপোর্ট’ নামে একটি গ্যারেজে গাড়ি রাখার জায়গায় বোমা দুটির বিস্ফোরণ হয়।
আরো পড়ুন>> ৯৩তম জন্মদিনে বিয়ে করলেন চাঁদে হাঁটা বাজ অলড্রিন
রাহুলের আগমন উপলক্ষ্যে জম্মুতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান মুকেশ সিং।
গত ৭ সেপ্টেম্বর কন্যাকুমারী থেকে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ শুরু করেছেন রাহুল। নানা রাজ্য ঘুরে গত বৃহস্পতিবার ওই যাত্রা জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল ৪ টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রথম বোমাটির বিস্ফোরণ হয়। তার পরপরই দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ‘‘পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি অভিযান চলছে।”
আরো পড়ুন>> মস্কোয় বিভিন্ন ভবনের ছাদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন
যশবিন্দর সিং নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘মেরামত করতে ওয়ার্কশপে পাঠানো একটি গাড়ির ভেতর প্রথম বোমাটির বিস্ফোরণ হয়।
‘‘বিকট শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে আমি দেখি একটি গাড়ি টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। প্রায় ১৫ মিনিট পর কাছেই আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়। যারা আহত হয়েছে তাদের অধিকাংশ কার মেকানিক।”
জম্মু পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল মুকেশ সিং জানিয়েছেন, কীভাবে বিস্ফোরণ হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।
এদিকে ভারত যখন প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত, ঠিক সেইসময়ই দিল্লিতে জঙ্গি হামলার হুমকি দিয়েছে খালিস্তানপন্থি সংগঠন শিখ ফর জাস্টিস (এসজেএফ)!
আরো পড়ুন>> পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন করলেন স্ত্রী
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে এই সংগঠনের নেতা গুরুপন্ত সিং পান্নু ‘২০২৩ সালে পাঞ্জাবকে ভারত থেকে মুক্ত’ করার দাবি জানান। প্রজাতন্ত্র দিবসেই যে হামলার ছক কষছে তারা, তা গুরুপন্তর ভিডিও থেকে স্পষ্ট।
তিনি বলেন, ‘২৬ জানুয়ারি বাড়িতে থাকুন, না হলে এসজেএফের বাধার মুখে পড়তে পারেন।’
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। এরপরই যোগ করেছেন, দিল্লি আমাদের লক্ষ্য হবে। আমরা খালিস্তানের পতাকা উত্তোলন করব। শুধু তাই নয় যদি কেউ লাল কেল্লায় খালিস্তান পতাকা উত্তোলন করেন তবে তাকে ৫ লাখ ডলার দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন গুরুপন্তর। এরপরই দিল্লি, পাঞ্জাবসহ উত্তরপূর্ব ভারতের সব রাজ্যেই জারি করা হয়েছে চরম সতর্কতা।