বখশিশে পেলেন লটারির টিকিট, এরপরই বদলে গেল নারীর জীবন
লটারির টিকিটে কতজনেরই বা ভাগ্যের চাকা ঘোরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লটারির ফলাফল জানার পর কিছুই জোটে না। কিন্তু একটি লটারির টিকিটই আগাগোড়া বদলে দিলো টোন্ডার নামের এক নারীর জীবন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ। দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকার আলাবামা এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন টোন্ডা ডিকরসন নামের নারী। সেদিন ঐ রেস্তোরাঁয় খেতে আসেন এডওয়ার্ড সেওয়ার্ড নামের এক ব্যক্তি। এডওয়ার্ডের টেবিলে খাবার পরিবেশন করেছিলেন টোন্ডা। খাবার খেয়ে ওঠার সময় টোন্ডাকে টিপ দিতে যান এডওয়ার্ড। টিপ দেওয়ার সময় এডওয়ার্ডের হাতে উঠে আসে নোটের বদলে একটি লটারির টিকিট। সেই টিকিটই টিপ হিসাবে টোন্ডার হাতে ধরিয়ে দেন তিনি। এডওয়ার্ড ভাবেন, লটারির টিকিটে হয়ত সামান্য কিছু টাকা জিতবেন টোন্ডা।
বিপত্তি ঘটে টোন্ডার হাতে টিকিট আসার ৬ দিন পর থেকে। ১৩ মার্চ লটারির ফলাফল প্রকাশ পায়। সেই লটারি থেকে ৭০ কোটি টাকা জেতেন টোন্ডা।
.png)
তখন সদ্য বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে ২০ বছর বয়সি নারী টোন্ডার। আর্থিক অবস্থাও তেমন একটা ভালো যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে এত টাকা একসঙ্গে পেয়ে যেন আকাশে উড়তে শুরু করে দেন তিনি। রেস্তোরাঁর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন টোন্ডা। কিন্তু টাকা হাতে আসার পরেই তার জীবনের একের পর এক ঝড় আসতে শুরু করে।
টাকা পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আলাবামার আদালতে হাজিরা দিতে হয় টোন্ডাকে। তিনি যে রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন, সেখানকার কর্মীরা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রেস্তোরাঁর নিয়ম অনুযায়ী, টিপ হিসাবে যত টাকা পাওয়া যায়, তা রেস্তোরাঁর সব কর্মীর মধ্যে সমপরিমাণে ভাগ হয়।
কিন্তু লটারির টাকা পাওয়ার পর টোন্ডা ঐ রেস্তোরাঁর কর্মীদের এক টাকাও দেননি। পরিবর্তে সেখান থেকে চাকরিই ছেড়ে দেন। আদালতে সাক্ষী হিসাবে এক যুগল হাজির হয়। ঐ যুগলের দাবি, তাদের সামনে টোন্ডা স্বীকার করেছিলেন যে, লটারি জিতে টাকা পেলে তা রেস্তোরাঁর অন্য কর্মীদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করবেন। কিন্তু এখন এত টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার পর কথার খেলাপ করছেন টোন্ডা।
আলাবামা আদালতের তরফে টোন্ডার কাছে ২৪ কোটি টাকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকি টাকা সবার মধ্যে ভাগ করে দিতে বলে আদালত। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্ত মানেননি টোন্ডা। সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান তিনি।
২০০০ সালে আলাবামার সুপ্রিম কোর্টের তরফে আগের সিদ্ধান্ত খারিজ হয়ে যায়। তারপর টোন্ডা লটারিতে জেতা টাকা পারিবারিক ব্যবসায় খরচ করতে থাকেন।
টোন্ডা জীবন এভাবে গুছিয়ে নিতে দেখে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এডওয়ার্ড। তিনিও টোন্ডার কাছে এই টাকার ভাগ চান। কিন্তু টোন্ডা তাকে টাকা ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
রাগের বশে টোন্ডার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এডওয়ার্ড। লটারিতে জিতলে টোন্ডা সেই টাকায় এডওয়ার্ডকে একটি ট্রাক কিনে দেবেন বলে কথা দিয়েছিলেন, এমনটাই দাবি করেন এডওয়ার্ড। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর টোন্ডা কথার খেলাপ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এডওয়ার্ডের এই অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণ করেন টোন্ডা। ফলে এই মামলা জিতে যান তিনি।
রাস্তার মাঝখান থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তর আলাবামার জ্যাকসন কাউন্টির একটি নির্জন দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয় টোন্ডাকে। সেখানে একটি নৌকায় উঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। নৌকায় উঠে টোন্ডা দেখতে পান তার সামনে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্টেসি মার্টিন, টোন্ডার প্রাক্তন স্বামী।
টোন্ডার টাকায় ভাগ বসানোর সুযোগ হাত ছাড়া করেননি স্টেসিও। তাই বন্দুকের ভয় দেখিয়ে টোন্ডার কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেন তিনি। কিন্তু টোন্ডাও এত সহজে ভয় পাওয়ার মেয়ে নন। স্টেসির হাত থেকে কেনো রকমে বন্দুক ছিনিয়ে তার বুকে গুলি চালিয়ে দেন টোন্ডা।
প্রাণে বাঁচতে স্টেসি নিকটবর্তী হাসপাতালে যান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অপহরণ বা গুলি চালানোর অপরাধে কারো বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
গুলি চালানোর ঘটনার পর স্টেসি আর টোন্ডাকে বিরক্ত করেননি। তবে ঘটনার ১২ বছর পর টোন্ডাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তিনি যেন আয়করের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ উপঢৌকন কর দেন।
টোন্ডা অবশ্য লটারির জেতা টাকা তখনো খরচ করতে পারেননি। তার পরিবারের সদস্যদের তিনি বাকি টাকা দিয়ে দেন। বর্তমানে মিসিসিপির একটি ক্যাসিনোয় কর্মরত রয়েছেন টোন্ডা। টিপ হিসাবে পাওয়া সামান্য লটারির টিকিট তার জীবনে এমন পরিবর্তন এনে দিয়েছে, তা এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না টোন্ডা নিজেই। সূত্র: আনন্দবাজার