‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে স্বল্পপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা যায় এমন ক্ষেপণাস্ত্র বানিয়েছে ডিআরডিও। মঙ্গলবার ওড়িশার চাঁদিপুরের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র (ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ বা আইটিআর) থেকে এমন দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে।
অতি স্বল্পপাল্লার এই ‘ভূমি থেকে আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্রকে সামরিক পরিভাষায় বলা হয় ‘ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ (ভিএস-এইচওআরএডিএস) বলা হয়। নীচু দিয়ে উড়ে যাওয়া শত্রুপক্ষের বিমান বা সশস্ত্র ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।
.png)
আগস্টে ডিআরডিওর তৈরি আরেকটি আকাশ হামলা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ‘ভার্টিকাল লঞ্চ শর্ট রেঞ্জ সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল’ (ভিএল-এসআরএসএএম) এর সফল পরীক্ষা হয়েছিল চাঁদিপুরে।
আরো পড়ুন>> রুশ যুদ্ধবিমানের আঘাতে কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত মার্কিন ড্রোন
ভূমি থেকে আকাশে নির্ভুল নিশানায় লক্ষ্যভেদ করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা যতটা তারচেয়েও বেশি দূরে ছুটে গিয়ে এয়ারক্রাফ্টকে টার্গেট করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিকালি-স্ক্যানড অ্যারে মাল্টিফাংশনাল রাডার সিস্টেম। বহুদূর থেকেও শত্রুসেনার এয়ারক্রাফ্টের সন্ধান পেতে পারে এটি। দিনে ও রাতে, আবহাওয়ার যেকোনো পরিস্থিতিতে সমান উপযোগী।
আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র এই মুহূর্তে ভারতের আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়, এটি এখন একটি পুরোদস্তুর আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আকাশ পথে ধেয়ে আসা অনেক বড় বড় আক্রমণকে রুখে দিতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।
একসঙ্গে ৬৪টি টার্গেটে নিশানা করতে পারে এই মিসাইল। যে কোনো আধুনিক ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের আক্রমণ রুখে দিতে পারে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় একাধিক সাফল্য পেয়েছে ডিআরডিও। ভারত-রুশ যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এসেছে ভারতীয় বাহিনীর হাতে। ভবিষ্যতে ব্রাহ্মস-২ ক্ষেপণাস্ত্রও আসবে ভারতের হাতে। ভারতের এখন অনেক বিকল্প ও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো দিয়ে বিশ্বের যেকোনও দেশকেই টেক্কা দিতে পারে পারমাণবিক শক্তিধর এই দেশ।
সূত্র: দ্য ওয়াল