ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ৬ শতাধিক ইউক্রেনীয় সৈন্যকে হত্যার দাবি রাশিয়ার
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর অস্থায়ী ব্যারাকে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে দেশটির ৬ শতাধিক সৈন্যকে হত্যার দাবি করেছে রাশিয়া।
রোববার (৮ জানুয়ারি) ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্ক শহরের পৃথক দু’টি ভবনে সেনাদের ব্যারাকে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাশিয়ার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেনও।
.png)
যদিও পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্ক শহরের মেয়র বলেছেন, রাশিয়া ক্রামাতোরস্ক শহরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। শহরের বিভিন্ন ভবনে হামলা চালানো হলেও এতে কেউ নিহত হননি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন তিনি।
আরো পড়ুন>> দীর্ঘ ২০ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চলতি বছরের শুরুতে দনেৎস্ক অঞ্চলের মাকিভকা শহরের রাশিয়ান ব্যারাকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলার প্রতিশোধে ক্রামাতোরস্কের একাধিক ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের ওই হামলায় কমপক্ষে ৮৯ জন রুশ সেনার প্রাণহানি ঘটেছিল।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনীয় সেনাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। যে দু’টি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে, তার একটিতে ইউক্রেনের ৭০০ এবং অন্যটিতে ছয় শতাধিক সৈন্য ছিল।
‘ইউক্রেনের সেনা ইউনিটগুলোর অস্থায়ী স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দেশটির ৬ শতাধিক সৈন্য ধ্বংস হয়েছে।’
আরো পড়ুন>> গোটা জোশীমঠকে বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা উত্তরাখণ্ড সরকারের
রাশিয়ার এই দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মস্কোর আক্রমণ শুরুর পর একদিনে ইউক্রেনের সৈন্যদের সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা হবে এটি।
টানা প্রায় সাড়ে ১০ মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। দীর্ঘ এই সময়ে ইউক্রেন কোনও যুদ্ধবিরতি দেখেনি, এমনকি বড়দিনের উৎসবের সময়ও না। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ আকস্মিকভাবেই গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে ৩৬ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এ জন্য তিনি ৬ ও ৭ জানুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালানো থেকে রুশ সৈন্যদের বিরত থাকার নির্দেশ দেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনে বসবাসরত অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে বড়দিন পালন করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
আরো পড়ুন>> সৌদিতে বিরল দৃশ্য, ধূসর পাহাড়-মরুভূমি ছেয়ে গেছে গাছপালায়
তবে ইউক্রেন এই যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি ভ্লাদিমির পুতিনের এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত চক্রান্ত বলেও আখ্যায়িত করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পুতিনের স্বঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সম্মুখ সমরে গোলাবর্ষণ চলেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।
এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি রাশিয়ার ৮০০ সেনাকে হত্যার দাবি করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। নিহতদের বেশিরভাগই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনেৎস্ক অঞ্চলে নিয়োজিত ছিলেন। তার আগে নববর্ষের দিন মধ্যরাতের দুই মিনিট পর অধিকৃত দনেৎস্কে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে অন্তত ৪০০ রুশ সৈন্যকে হত্যার দাবি করে ইউক্রেন।